পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ, ২০২৬ সালে নয়া সরকার গঠনের লক্ষে জারি কমিশনের বিজ্ঞপ্তি

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসবের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাজ্যপাল ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন বিধানসভা গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, রাজ্যের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে আগামী ৭ মে, ২০২৬ তারিখে। তার আগেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে যে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানকার প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ম জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে, আগামী ৯ এপ্রিল হলো মনোনয়ন পত্র পেশ করার চূড়ান্ত দিন। ইচ্ছুক প্রার্থীরা যথাযথ নিয়ম মেনে ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মনোনয়ন পত্র জমা পড়ার পরবর্তী ধাপে আইনগত বৈধতা যাচাই বা স্ক্রুটিনির কাজ সম্পন্ন হবে ১০ এপ্রিল। যদি কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতে চান, তবে তার জন্য ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময় ধার্য করেছে কমিশন। এই দিনটির মধ্যেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার এই মেগা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ এপ্রিল, বুধবার। ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটদানের সময়সীমা রাখা হয়েছে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই দফায় নদিয়া জেলার করিমপুর, তেহট্ট, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর থেকে শুরু করে বারাসাত, রাজারহাট এবং বর্ধমান ও হুগলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোট হবে। এছাড়াও দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতা, কসবা, ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম, মধ্য হাওড়া, শিবপুর এবং তারকেশ্বরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রগুলোতেও ওই দিনই জনমত প্রতিফলিত হবে।
রাজ্য প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং অবাধ একটি নির্বাচন উপহার দেওয়া। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৬ মে-র মধ্যেই গোটা রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে। এই নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা যেমন তুঙ্গে উঠেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভোট নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন সকলের নজর ২৯ এপ্রিলের হেভিওয়েট লড়াইয়ের দিকে।