তেল আভিভ ও এলাতে ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলা, গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি সামরিক ঘাঁটি

তেল আভিভ ও এলাতে ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলা, গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়িয়ে ইসরায়েলের বুক চিরে ফের আছড়ে পড়ল ইরানের মিসাইল। বুধবার ভোরে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আভিভ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর এলাত লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সুনির্দিষ্ট হামলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র ও যুদ্ধাস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এই হামলার খবর নিশ্চিত করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে ইরান থেকে নতুন দফায় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র দেশের আকাশসীমানায় প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের এই ভয়াবহ মিসাইল বর্ষণ রুখতে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে ঠিক কতগুলো মিসাইল ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে এবং কতগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরানের এই পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরাক ও কুয়েত সীমান্তেও যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘সারায়া আউলিয়া আল-দাম’ দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরাকের অভ্যন্তরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ৫টি বড় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরাকের ইরান-পন্থী শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো পুরো অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনার ওপর ২৩টি আলাদা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। ফলে পাল্টাপাল্টি এই সংঘর্ষে পুরো পশ্চিম এশিয়ায় এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও পড়ছে।

সংঘাতের এই আবহে কুয়েত সেনাবাহিনী এক জরুরি ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের মিসাইল বা ড্রোন হামলার মোকাবিলা করতে তাদের বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আঞ্চলিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক আজ এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ওই অঞ্চলে ৬০০-র বেশি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সাম্প্রতিক মিসাইল বর্ষণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে তেল আভিভের মতো জনবহুল ও সুরক্ষিত শহরে আঘাত হানার চেষ্টা তেহরানের যুদ্ধংদেহী মনোভাবকেই স্পষ্ট করে। একদিকে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে এই ধারাবাহিক আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড়সড় যুদ্ধের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আপাতত বিশ্বমহলের নজর এখন ইসরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *