জেট ধ্বংস হলেও ইরানের সঙ্গে আলোচনা কি জারি থাকবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান

জেট ধ্বংস হলেও ইরানের সঙ্গে আলোচনা কি জারি থাকবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালেও আলোচনার পথ থেকে সরতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এই বিমান দুর্ঘটনার পর প্রথমবার মুখ খুলে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিস্থিতির জটিলতা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ছেদ পড়বে না। তিনি এই পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করলেও সাফ জানিয়েছেন যে, সামরিক অভিযান এবং আলোচনার প্রক্রিয়া একই সঙ্গে সমান্তরালভাবে চলতে পারে।

গত শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়লে আঞ্চলিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বিমান ইরানি সীমান্তে ভেঙে পড়েছে। ওই বিমানের একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের খোঁজ এখনও মেলেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি অনুযায়ী, নিখোঁজ মার্কিন পাইলট ইরানি হেফাজতে থাকতে পারেন, যদিও পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মার্কিন প্রশাসনের একজন শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে বিমান বাহিনীর আরও একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় বিমানটি ইরান ভূপাতিত করেছে নাকি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সেটি ভেঙে পড়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির কারণে পাইলটদের বর্তমান অবস্থান বা বিমানের নিখুঁত স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও উদ্ধারকাজ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমানে কার্যত স্থবির। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসতে আগ্রহী নয়। এমনকি আমেরিকার পক্ষ থেকে পেশ করা শর্তাবলিকেও তারা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের এই কঠোর মনোভাবের পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা আরও প্রবল হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় ফ্রন্টেই সক্রিয় থাকলেও তেহরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যস্থতাকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিকে বিমান ধ্বংস এবং অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অচলাবস্থা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক সংলাপের মধ্যে সূক্ষ্ম লড়াই চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *