শিশুদের জন্য ৫ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বিএ ৩.২
/odishatv/media/media_files/2026/03/27/new-variant-cicada-2026-03-27-22-22-19.jpg?w=640&resize=640,414&ssl=1)
বিশ্বজুড়ে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ওমিক্রনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট বিএ ৩.২, যা ‘সিকাডা’ নামেও পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাসটি ইতিমধ্যে ২৩টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন রূপটি সাধারণের তুলনায় শিশুদের জন্য অন্তত ৫ গুণ বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম হওয়ায় তারা দ্রুত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল বা খেলার মাঠে মেলামেশার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ভারতে প্রায় ২৫ কোটি শিশুর বড় অংশই এখনও বুস্টার ডোজের আওতায় আসেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সিকাডা ভ্যারিয়েন্টের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে টানা শুকনো কাশি, তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা এবং প্রবল ক্লান্তি। এছাড়া শ্বাসকষ্ট, স্বাদ ও গন্ধ চলে যাওয়া এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা বা বমির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। সাধারণ ফ্লু ভেবে এসব লক্ষণকে অবহেলা করা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সংক্রমণ রুখতে শিশুদের জনাকীর্ণ স্থানে মাস্ক পরা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং ঘরোয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে টিকাকরণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এখনও একে জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেনি, তবে বিভিন্ন দেশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই ভ্যারিয়েন্ট পূর্বের অর্জিত ইমিউনিটিকেও আংশিক ফাঁকি দিতে সক্ষম। তাই আতঙ্কিত না হয়ে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন শ্রেষ্ঠ উপায়।
অফিসিয়াল গাইডলাইন অনুযায়ী, শিশুদের শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এই নতুন কোভিড ঢেউ মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে।