ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক ট্রাইব্যুনালের লাইনে অসুস্থ অশীতিপররাও

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক ট্রাইব্যুনালের লাইনে অসুস্থ অশীতিপররাও

রাজ্যে একদিকে যখন ভোটপ্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বারাসাত ও কাটোয়া সহ বিভিন্ন প্রান্তে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে ধরা পড়ল ভিন্ন ছবি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের তালিকায় নাম ওঠাতে ভোরের আলো ফোটার আগেই ট্রাইব্যুনালের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ৮৫ বছরের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে কোলের শিশুসহ মায়েরা। পাসপোর্ট বা অন্যান্য বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ গেল, সেই দুশ্চিন্তায় প্রখর রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভোট দেওয়ার পরেও হঠাৎ করে তাঁদের নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। এমনকি হাসপাতাল থেকে সদ্য ছুটি পাওয়া রোগী বা বয়স্ক মানুষও বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ভোটারদের প্রশ্ন, যাঁদের ভোট দিয়ে প্রার্থীরা জয়ী হন, সেই সাধারণ নাগরিকরাই যদি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে গণতন্ত্রের সুরাহা কোথায়? নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনেকে জানিয়েছেন, যাবতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা দেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁদের।

কাটোয়াতেও একই রকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার মহকুমাশাসকের দপ্তরের সামনে ভোররাত থেকে শতাধিক মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন নিয়ে বিভ্রান্তির জেরে ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। হুড়োহুড়ি ও ঠেলাঠেলির মধ্যে অনেকে পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, যার ফলে তৈরি হয় আতঙ্ক। পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার অভাব এবং প্রবল গরমে লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

আগামী ২৯ তারিখের ভোটকে সামনে রেখে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই কয়েক হাজার মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না। নথিপত্র হাতে নিয়ে দিনভর জেলাশাসকের দপ্তরে উদ্বিগ্ন ও ক্লান্ত মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে অসহায় সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও দুশ্চিন্তা এখন জেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *