ভোটের আবহে রাজ্যে কড়া নিষেধাজ্ঞা, এপ্রিলে কতদিন বন্ধ থাকবে মদের দোকান ও বার

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল আবগারি দফতর। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই চলতি এপ্রিল মাসে নির্দিষ্ট কিছু দিনে রাজ্যের মদের দোকান ও পানশালা বা বারগুলি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ড্রায় ডে-র ঘোষণা করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে রাজ্যে দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত এলাকায় ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই মদ বিক্রি ও পানশালা খোলা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এই সময়সীমার মধ্যে কোনওভাবেই সুরা কেনাবেচা বা জনসমক্ষে মদ্যপান করা যাবে না।
বিস্তারিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ-সহ মোট ১৫২টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে। এই কেন্দ্রগুলিতে ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব মদের দোকান ও বার বন্ধ থাকবে। একইভাবে ২৯ এপ্রিল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার ভোট হওয়ার কারণে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে।
দফতর আরও স্পষ্ট করেছে যে, শুধুমাত্র ভোটের দিনগুলিই নয়, আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার দিনও এই কড়াকড়ি বজায় থাকবে। ফল প্রকাশের দিন গোটা রাজ্য জুড়েই মদের দোকান ও বার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যদি কোনও নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়, তবে সেখানেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় একই নিয়ম অনুযায়ী মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা রুখতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দেশ অমান্য করে কোনও দোকান বা বার খোলা রাখলে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। পুলিশ ও আবগারি দফতরের বিশেষ দল এই দিনগুলিতে কড়া নজরদারি চালাবে।
সব মিলিয়ে, উৎসবের মরসুম ও নির্বাচনের আবহে সুরাপ্রেমীদের জন্য এই খবর যথেষ্ট উদ্বেগের হলেও, গণতন্ত্রের উৎসবকে শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহল। জেলা প্রশাসনগুলিকে ইতিপূর্বেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এর ফলে ভোট চলাকালীন রাজ্যে সুরার জোগান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।