ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: ‘আজ রাতে একটি সভ্যতার মৃত্যু হবে, অবসান ঘটবে ৪৭ বছরের শাসনের’

ওয়াশিংটন: ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতেই “একটি আস্ত সভ্যতার মৃত্যু হতে চলেছে”। ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টার মধ্যে তেহরানকে চুক্তিতে আসার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। এই ডেডলাইনের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে এবং তা আর কখনও ফিরে আসবে না। আমি এটা চাই না, কিন্তু সম্ভবত এটাই হতে চলেছে।” তবে একইসঙ্গে তিনি আশার সুর শুনিয়ে বলেন, যদি সে দেশে অপেক্ষাকৃত কম কট্টরপন্থীরা এগিয়ে আসে, তবে হয়তো ভালো কিছু হতেও পারে। ট্রাম্পের মতে, আজ রাতটি বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে চলেছে এবং গত ৪৭ বছরের দুর্নীতি ও জোরজবরদস্তির শাসনের অবসান ঘটবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন বল ইরানের কোর্টে। তারা তেল ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চায় কি না, তা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ভ্যান্সের আশা, ইরান সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা এ পর্যন্ত যথেষ্ট ধৈর্য দেখিয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী যদি “সীমানারেখা” অতিক্রম করে, তবে তার পালটা জবাব সুদূরপ্রসারী হবে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলোর পরিকাঠামো ধ্বংস করতে পারে এবং বছরের পর বছর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, সোমবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে ইরানকে এক রাতেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব। তার দেওয়া চুক্তির প্রধান শর্ত হলো, ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে, যেখান দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে, আর তার ওপরই এখন নির্ভর করছে গোটা বিশ্বের ভবিষ্যৎ।