সত্তরোর্ধ প্রবীণদের জন্য কেন্দ্রের বিশেষ উপহার, ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসায় ‘ভায়া বন্দনা কার্ড’

সত্তরোর্ধ প্রবীণদের জন্য কেন্দ্রের বিশেষ উপহার, ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসায় ‘ভায়া বন্দনা কার্ড’

বার্ধক্যে স্বাস্থ্য বিমার আকাশছোঁয়া প্রিমিয়াম এবং পলিসি পাওয়ার জটিলতা দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে এসেছে এক বিশেষ সুরক্ষা কবচ। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় সত্তর বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এখন বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ মিলছে। যা মূলত ‘ভায়া বন্দনা কার্ড’ হিসেবে পরিচিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রবীণরা বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন এবং উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।

এই সুবিধার প্রাথমিক শর্ত হলো আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ৭০ বছর বা তার বেশি হতে হবে। প্রকল্পটি সরাসরি আয়ুষ্মান ভারত ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত, যা নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে তৈরি। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে বা নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) গিয়ে তালিকায় নাম রয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারেন। তথ্য যাচাই এবং সংক্ষিপ্ত বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কার্ডটি ইস্যু করা হয়, যা দেশের যেকোনো তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে ব্যবহারযোগ্য।

ভায়া বন্দনা কার্ডের সবথেকে বড় সুবিধা হলো এর ক্যাশলেস চিকিৎসা পদ্ধতি। অর্থাৎ, হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে রোগীকে নিজের পকেট থেকে টাকা দিতে হয় না; হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি সরকারের সঙ্গে বিল মিটিয়ে নেয়। এই বিমার আওতায় হাসপাতালে ভর্তির আগের ও পরের নির্দিষ্ট কিছু খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এটি মূলত গুরুতর অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচারের মতো বিশেষ চিকিৎসার জন্য প্রযোজ্য। সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা নিয়মিত ওষুধের খরচ এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত নয়।

বেসরকারি বিমা সংস্থাগুলো যখন প্রবীণদের পলিসি দিতে অনীহা প্রকাশ করে, তখন কেন্দ্রের এই উদ্যোগ এক বিশাল ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা দেশে বিস্তৃত হাসপাতালের নেটওয়ার্ক থাকায় প্রবীণরা এখন নিশ্চিন্তে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। এই সুরক্ষা কবচটি মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপর থেকে চিকিৎসার আর্থিক ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে। ডিজিটাল জালিয়াতি এড়াতে এবং সঠিক সুবিধা পেতে সরাসরি সরকারি পোর্টাল বা অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে এই কার্ড সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *