পোস্ট অফিস আরডি স্কিমে প্রতিদিন ৩০০ টাকা জমিয়ে পান ১৫ লক্ষ টাকা

ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা প্রতিটি মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানের ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে কেবল টাকা জমিয়ে রাখাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক এবং নিরাপদ স্থানে বিনিয়োগ, যেখানে মূলধনের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকার পাশাপাশি মিলবে আকর্ষণীয় রিটার্ন। সাধারণ মানুষের এই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পোস্ট অফিস নিয়ে এসেছে তাদের জনপ্রিয় রেকারিং ডিপোজিট বা আরডি স্কিম। সরকারি গ্যারান্টি থাকায় এই বিনিয়োগ যেমন ঝুঁকিমুক্ত, তেমনি এর মাধ্যমে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও কয়েক বছরে একটি বিশাল অঙ্কের ফান্ড তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।
মাত্র ১০০ টাকা থেকে বিনিয়োগের সুযোগ
পোস্ট অফিস আরডি স্কিমের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর সহজলভ্যতা। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো ভারতীয় নাগরিক নিকটস্থ পোস্ট অফিসে গিয়ে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এই স্কিমে বিনিয়োগ শুরু করার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন নেই; মাত্র ১০০ টাকা দিয়েও সঞ্চয় শুরু করা সম্ভব। বর্তমানে ভারত সরকার এই আমানতের ওপর বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ হারে সুদের সুবিধা প্রদান করছে, যা অনেক ব্যাংকের তুলনায় বেশ প্রতিযোগিতামূলক।
দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় ও নমনীয়তা
সাধারণত পোস্ট অফিস আরডি স্কিমের প্রাথমিক মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। যারা মধ্যমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে সঞ্চয় করতে চান, তাদের জন্য এটি চমৎকার। তবে প্রকৃত মুনাফা পাওয়া যায় যদি এই বিনিয়োগের মেয়াদ আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়িয়ে নেওয়া হয়। অর্থাৎ, মোট ১০ বছরের মেয়াদে বিনিয়োগ করলে চক্রবৃদ্ধি সুদের প্রভাবে জমার পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এতে কিছু নমনীয় শর্তও রাখা হয়েছে:
- তিন বছর নিয়মিত টাকা জমা দেওয়ার পর বিশেষ প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সুযোগ রয়েছে।
- অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) চাইলে সেই সঞ্চয় চালিয়ে যেতে পারেন অথবা জমার টাকা দাবি করতে পারেন।
জরুরি প্রয়োজনে সাশ্রয়ী ঋণ সুবিধা
পোস্ট অফিসের আরডি স্কিম কেবল সঞ্চয় মাধ্যম হিসেবেই নয়, বিপদে আপদে আর্থিক ঢাল হিসেবেও কাজ করে। অ্যাকাউন্ট খোলার এক বছর পর থেকে আমানতকারীরা তাদের জমা করা টাকার ওপর ভিত্তি করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পান। আমানতকারী তার ব্যালেন্সের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসেবে নিতে পারেন। ব্যক্তিগত ঋণের উচ্চ সুদের হারের তুলনায় এটি অনেক সাশ্রয়ী, কারণ এক্ষেত্রে মূল সুদের হারের ওপর মাত্র ২ শতাংশ অতিরিক্ত সুদ দিতে হয়।
যেভাবে তৈরি হবে ১৫ লক্ষ টাকার ফান্ড
অল্প অল্প জমানোর শক্তি কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তা এই স্কিমের হিসেব দেখলেই বোঝা যায়। যদি কোনো ব্যক্তি প্রতিদিনের আয় থেকে ৩০০ টাকা করে সঞ্চয় করেন, তবে মাসে তার জমার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯,০০০ টাকা।
১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করলে হিসেবটি হবে নিম্নরূপ:
- মোট বিনিয়োগ: ১০ বছরে মোট জমার পরিমাণ হবে ১০,৮০,০০০ টাকা।
- অর্জিত সুদ: বর্তমান সুদের হারে (৬.৭%) এই সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র সুদ বাবদ আয় হবে ৪,৪০,৮৮৯ টাকা।
- ম্যাচিউরিটি ভ্যালু: ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আমানতকারী এককালীন ১৫,২০,৮৮৯ টাকা পাবেন।
অর্থাৎ, ছোট ছোট দৈনিক সঞ্চয় সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ১০ বছরে একটি বিশাল সম্পদে পরিণত হতে পারে, যা সন্তানদের শিক্ষা, বিয়ে বা অবসর জীবনের জন্য বড় সহায়ক হবে।
একঝলকে
- স্কিমের নাম: পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট (RD)।
- ন্যূনতম বিনিয়োগ: প্রতি মাসে মাত্র ১০০ টাকা।
- বর্তমান সুদের হার: বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ।
- বিনিয়োগের সময়সীমা: ৫ বছর (আরও ৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে)।
- ঋণ সুবিধা: এক বছর পর জমার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা।
- সর্বোচ্চ রিটার্ন: প্রতিদিন ৩০০ টাকা জমিয়ে ১০ বছরে ১৫ লক্ষ টাকার বেশি পাওয়ার সুযোগ।