মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের রূঢ় আচরণে উত্তপ্ত কমিশন, পর্যবেক্ষককে অপমানের জেরে বাতিল বৈঠক

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারি আধিকারিক—সকলের সঙ্গেই তাঁর ব্যবহার নিয়ে এর আগেই সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার খোদ নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রাপ্ত এক পর্যবেক্ষকের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক মাঝপথেই বাতিল করতে বাধ্য হয় কমিশন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন বাংলা ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের পর্যবেক্ষকদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছিলেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। প্রতিটি কেন্দ্রের বুথ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি জানতে চাওয়ার সময় কোচবিহার দক্ষিণের পর্যবেক্ষক অনুরাগ যাদবের পালা আসে। অনুরাগবাবু নির্দিষ্ট তথ্যগুলি দেওয়ার জন্য নথিপত্র দেখে নেওয়ার সামান্য সময় প্রার্থনা করতেই মেজাজ হারান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি ওই আধিকারিককে ‘অদক্ষ’ বলে অভিহিত করেন এবং তৎক্ষণাৎ ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান আধিকারিক অনুরাগ যাদব। ২৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানান যে, তাঁর সঙ্গে এই ধরনের অপমানজনক ভাষায় কথা বলা যায় না। এই বাদানুবাদের জেরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলস্বরূপ, তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত পরবর্তী বৈঠকটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দুই রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একজন সহকর্মীকে হেনস্থা করার ঘটনায় জ্ঞানেশ কুমারের পেশাদারিত্ব ও আচরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অপমানিত আধিকারিক ও তাঁর সহকর্মীদের দাবি, সরকারি উচ্চপদে আসীন থেকেও এহেন উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকাশ্যে চলে এল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।