BIG NEWS: বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে বড় কড়াকড়ি, নতুন বণ্টন নীতি আনল কেন্দ্র

দেশে এলপিজি সরবরাহের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে সৃষ্ট গ্যাস সংকট মোকাবিলা এবং অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য। মোদী সরকারের নতুন নীতি অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য মজুত গ্যাসের একটি বড় অংশ রাজ্যগুলোর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
সরবরাহে অগ্রাধিকার ও ৭০ শতাংশের ফর্মুলা
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল জানিয়েছেন, এখন থেকে বাণিজ্যিক ও বাল্ক এলপিজি সিলিন্ডার বণ্টনের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোকে মোট মজুতের ৭০ শতাংশ বরাদ্দ করা হবে। এই বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে:
- মোট বরাদ্দের ৭০ শতাংশ সরাসরি রাজ্যগুলোর জন্য রাখা হয়েছে।
- যেসব রাজ্য পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ গ্যাস বরাদ্দ করা হয়েছে।
- শিল্পসংস্থাগুলোকে এলপিজি-র বিকল্প হিসেবে পিএনজি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
শিল্পক্ষেত্রে সরবরাহের নতুন সীমা
নতুন এই নীতির ফলে বড় শিল্পক্ষেত্রগুলো সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকট সামাল দিতে কেন্দ্র নির্দিষ্ট কিছু খাতের জন্য সরবরাহের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়েছে। ফার্মা, ফুড প্রসেসিং, পলিমার, কৃষি, প্যাকেজিং, রং, ইস্পাত এবং কাচ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো গত মার্চ মাসের গড় ব্যবহারের মাত্র ৭০ শতাংশ গ্যাস পাবে। এছাড়া দৈনিক সরবরাহের ক্ষেত্রে ০.২ মেট্রিক টনের একটি ঊর্ধ্বসীমাও কার্যকর করা হয়েছে।
সংকটের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক কারণ
দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতে এলপিজি আমদানিতে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। যদিও বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীর সংকট কাটার ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও গত এক মাসের ঘাটতি মেটাতে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ হাহাকার বন্ধ করতেই সরকার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বিকল্প জ্বালানি ও নিবন্ধনের শর্ত
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যেসব শিল্প ইউনিটে প্রযুক্তিগত কারণে এলপিজি-র বিকল্প ব্যবহার আসাম্ভব, কেবল তারাই অগ্রাধিকার পাবে। তবে এই সুবিধার জন্য অয়েল মার্কেটিং কো ম্পা নিগুলোতে নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি পিএনজি সংযোগের জন্য আবেদন করতে হবে। যে সকল ক্ষেত্রে এলপিজি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাদের ক্ষেত্রে শর্তে কিছুটা শিথিলতা দেওয়া হয়েছে।
একঝলকে
- বাণিজ্যিক এলপিজি মজুতের ৭০ শতাংশ রাজ্যগুলোর জন্য বরাদ্দ।
- পিএনজি ব্যবহারে আগ্রহী রাজ্যগুলোর জন্য ১০ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দ।
- গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রগুলোর জন্য গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে।
- দৈনিক গ্যাস সরবরাহের ঊর্ধ্বসীমা ০.২ মেট্রিক টন নির্দিষ্ট।
- হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে সৃষ্ট এলপিজি ঘাটতি মেটাতেই এই পদক্ষেপ।
- শিল্পসংস্থাগুলোকে দ্রুত পিএনজি ও সিবিজি নীতি গ্রহণের নির্দেশ।