মমতার ভবানীপুর আসন কি সংকটে? লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা পড়ায় দুশ্চিন্তায় তৃণমূল

মমতার ভবানীপুর আসন কি সংকটে? লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা পড়ায় দুশ্চিন্তায় তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নিশ্চিত আসনে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মেঘ দেখা দিয়েছে। বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্য সামনে এসেছে, যা শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ভোটার তালিকায় বড়সড় কাটছাঁট ও পরিসংখ্যান

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অভিযানে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে মমতার নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রেও। ভবানীপুরের ভোটার তালিকায় হওয়া এই পরিবর্তনের মূল বিষয়গুলো হলো:

  • ভবানীপুর কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫ জন।
  • সাম্প্রতিক যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় মোট ৫১ হাজার ৪ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ মুসলিম এবং ৭৭ শতাংশ অমুসলিম ভোটার রয়েছেন।
  • মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট নামের তালিকায় থাকা ৪৪ হাজার নাম প্রথম ধাপেই বাদ যায়।
  • তদন্তের পর আরও কয়েক হাজার নাম কাটা পড়ায় ভোটার সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে।

কেন চিন্তায় তৃণমূল কংগ্রেস

গত উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। সেখানে বিজেপির প্রার্থী পেয়েছিলেন ২৬ হাজার এবং সিপিআইএম পেয়েছিলেন ৪ হাজার ভোট। এবার যদি প্রায় ৫১ হাজার ভোটার কমে যায় এবং তার মধ্যে মুসলিম ভোটারদের (যারা তৃণমূলের প্রধান ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত) বড় অংশ থাকে, তবে জয়ের ব্যবধান ও ফলাফলে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তৃণমূলের দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে তাদের ভোটব্যাংকে আঘাত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বিজেপির কৌশলী চাল ও শাহের বার্তা

ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির বাজি শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আয়োজিত রোড-শোতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত ছিলেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রাজ্যজুড়ে ১৭০টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ভবানীপুরে মমতাকে পরাজিত করা হলো সরকার পরিবর্তনের ‘শর্টকাট’। বিজেপি মনে করছে, ভোটার তালিকার এই সংস্কার এবং সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজন তাদের জয়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

সংখ্যালঘু ভোট ও এম ফ্যাক্টর

এবার নির্বাচনে তৃণমূলের চিরাচরিত ‘এম’ বা মুসলিম ফ্যাক্টর বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের সক্রিয়তা এবং অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরের মতো নেতাদের প্রভাব মুসলিম ভোট ভাগ করে দিতে পারে। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে মুসলিম ভোট বিভক্ত হলে তার সরাসরি সুবিধা পাবে বিজেপি। ভবানীপুরের ক্ষেত্রেও এই একই সমীকরণ কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একঝলকে

  • ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
  • তালিকা থেকে মোট ৫১ হাজার ৪ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
  • তৃণমূলের অভিযোগ, সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলোতে বেশি নাম কাটা হয়েছে।
  • বিজেপি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবানীপুরে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে।
  • ভোটব্যাংক রক্ষায় আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *