আরএসএস সেমিনারে যোগ দেওয়া বিচারকের পক্ষপাতিত্ব নয়, কেজরিওয়ালের আরজি খারিজের দাবিতে সরব সিবিআই

দিল্লির আবগারি নীতি মামলায় বিচারক বদলের আবেদনকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই এখন তুঙ্গে। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অন্য ২৩ জন অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বিচারপতি ডক্টর স্বরণ কান্তা শর্মাকে মামলা থেকে সরানোর যে আবেদন করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) তার তীব্র বিরোধিতা করেছে। সিবিআই এই প্রচেষ্টাকে আদালতকে হেনস্থা করার একটি কৌশল এবং ভিত্তিহীন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিচারবিভাগীয় নিরপেক্ষতা ও সিবিআইয়ের অবস্থান
সিবিআই দিল্লি হাইকোর্টে দাখিল করা হলফনামায় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বিচারক বদলের এই আবেদন শুধুমাত্র অনুমান এবং আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, মামলার কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বা পর্যবেক্ষণে অসন্তুষ্ট হওয়া বিচারক বদলের আইনি ভিত্তি হতে পারে না।
সিবিআইয়ের যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- বেঞ্চ হান্টিংয়ের আশঙ্কা: সিবিআই সতর্ক করে দিয়েছে যে, অভিযুক্তদের এই ধরনের দাবি মেনে নিলে বিচারব্যবস্থায় ‘বেঞ্চ হান্টিং’ বা পছন্দমতো বিচারক বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করবে।
- আরএসএস সেমিনার প্রসঙ্গ: বিচারপতি শর্মা আরএসএসের আইনি শাখা ‘অখিল ভারতীয় আইনজীবী পরিষদ’ (ABAP)-এর একটি সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন। সিবিআইয়ের দাবি, একটি অরাজনৈতিক আইনি সেমিনারে যোগ দেওয়া কোনো বিচারকের আদর্শগত পক্ষপাতের প্রমাণ হতে পারে না।
- উচ্চ আদালতের নজির: তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, যদি এ ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াকে বিচারকের পক্ষপাতিত্ব হিসেবে দেখা হয়, তবে দেশের উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারককেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
দ্রুত শুনানির যৌক্তিকতা
কেজরিওয়াল পক্ষের অভিযোগ ছিল যে, বিচারপতি শর্মা অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে এই মামলার শুনানি করছেন। এর জবাবে সিবিআই উল্লেখ করেছে যে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে বর্তমান ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য বা বিধায়কদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করার। আদালতের এই সক্রিয়তাকে কোনোভাবেই পক্ষপাতিত্ব বলা চলে না। উদাহরণ হিসেবে লালু প্রসাদ যাদবের মামলার কথা উল্লেখ করে সিবিআই জানায়, সেখানেও বিচারপতি শর্মা তিন মাসের কম সময়ে ২৭ বার শুনানি করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত আবগারি দুর্নীতি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াসহ ২৩ জন অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। বর্তমানে বিচারপতি স্বরণ কান্তা শর্মার এজলাসে সেই আপিল মামলার শুনানি চলছে। কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া ছাড়াও দুর্গেশ পাঠক, বিজয় নায়ার এবং অন্যান্য অভিযুক্তরা বিচারক বদলের আবেদন জানিয়েছেন। আগামী ১৩ এপ্রিল এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
একঝলকে
- সিবিআইয়ের দাবি অনুযায়ী বিচারক বদলের আবেদনটি ভিত্তিহীন ও আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা।
- আরএসএস সংশ্লিষ্ট সংস্থার সেমিনারে যোগ দেওয়া বিচারকের পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ নয়।
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা বিচারকের দায়িত্ব।
- বিচারক বদলের আরজিকে ‘বেঞ্চ হান্টিং’ হিসেবে অভিহিত করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
- ১৩ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।