মার্কিন-ইরান কূটনীতিতে বড় মোড়, ইসলামাবাদে আলোচনায় বসছেন ভ্যান্স ও কুশনার

মার্কিন-ইরান কূটনীতিতে বড় মোড়, ইসলামাবাদে আলোচনায় বসছেন ভ্যান্স ও কুশনার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরান সংঘাত নিরসনে এক বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছে, যারা শনিবার সকালে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নেবে। এই প্রতিনিধি দলে ভ্যান্সের পাশাপাশি থাকছেন ট্রাম্পের প্রধান উপদেষ্টা জেরাড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ। দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পর এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানের পূর্ববর্তী ১০-দফা প্রস্তাবটি অত্যন্ত ‘অগ্রহণযোগ্য’ হওয়ায় তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তবে সম্প্রতি তেহরান একটি সংশোধিত প্রস্তাব পেশ করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫-দফা শর্তাবলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলেই আলোচনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়া ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হতে পারে বলেও প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা পরমাণু ইস্যুতে একটি বড় অগ্রগতি হতে পারে।

এই আলোচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ বাধামুক্ত করা। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনকারী এই কৌশলগত জলপথে কোনো ধরনের টোল বা বিধিনিষেধ ছাড়া জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর ট্রাম্প প্রশাসন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা মার্কিন ও ইজরায়েলি অভিযানের ফলে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলির অস্ত্র সরবরাহ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে যুদ্ধের চাপ থেকে সরে এসে এখন আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফেরাতে চাইছে হোয়াইট হাউস।

ইসলামাবাদের এই বৈঠক ঘিরে বর্তমানে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আলোচনার প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা চিনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজিত এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *