লাড্ডু ফেরালেন মহিলারা, ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের মুখে বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া

লাড্ডু ফেরালেন মহিলারা, ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের মুখে বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া

বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক উত্তাপ এবার চরমে। ভোটপ্রচারের ময়দানে নেমে খোদ বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়াকে সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো। বুধবার সকালে বনগাঁ পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেল কলোনি এলাকায় প্রচার চলাকালীন এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি গত পাঁচ বছর বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

জনরোষের মুখে বিজেপি প্রার্থী ও লাড্ডু বিতর্ক

বুধবার সকালে দলীয় কর্মীদের নিয়ে হুডখোলা জিপ ও পায়ে হেঁটে প্রচারে বেরিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া। গলায় রজনীগন্ধার মালা এবং গেরুয়া উত্তরীয় পরে যখন তিনি ভোটারদের কাছে আশীর্বাদ চাইছিলেন, তখনই বাধে বিপত্তি। প্রচারের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিজেপি কর্মীরা ভোটারদের হাতে লাড্ডু তুলে দিচ্ছিলেন। কিন্তু মিষ্টি মুখ করার বদলে জনতা মেতে ওঠে বিধায়কের কাজের খতিয়ান নিয়ে তর্কে।

রেল কলোনির বাসিন্দা এক উচ্চশিক্ষিত যুবক রাজ জশোয়ার সরাসরি প্রার্থীকে থামিয়ে প্রশ্ন করেন যে, ২০২১ সালে তাঁকে ভোট দিয়ে জেতানো কি সাধারণ মানুষের ভুল ছিল? তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জেতার পর দীর্ঘ পাঁচ বছর এলাকায় বিধায়কের দেখা পাওয়া যায়নি। এই মন্তব্যের সমর্থনে এলাকার মহিলারাও বিক্ষোভে যোগ দেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভকারীকে লাড্ডু দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলে ক্ষোভ আরও বাড়ে। এক প্রতিবাদী মহিলা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আর লাড্ডু লাগবে না”।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব বিশ্লেষণ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি:

  • তৃণমূলের অভিযোগ: তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের দাবি, বিধায়ক গত পাঁচ বছর এলাকায় কোনও কাজ করেননি বলেই সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এছাড়া প্রচারে লাড্ডু বিলি করাকে তিনি নির্বাচনী বিধিলঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
  • বিজেপির সাফাই: বনগাঁ জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ এই ঘটনাকে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, অশোক কীর্তনিয়া নিয়মিত মানুষের পাশে ছিলেন এবং এলাকা ও পরিস্থিতির কারণে কিছু মানুষ ভুল বুঝতে পারেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও জনমানসে প্রভাব

বনগাঁ উত্তর মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে ‘পরিষেবা না পাওয়ার’ এই অভিযোগ নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটারদের এই সরাসরি প্রতিবাদ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শুধুমাত্র দলীয় প্রচার বা প্রতীক নয়, কাজের খতিয়ানই এবার ভোটের ময়দানে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে।

একঝলকে

  • স্থান: বনগাঁ পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, রেল কলোনি।
  • প্রধান চরিত্র: বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া ও স্থানীয় ক্ষুব্ধ ভোটাররা।
  • মূল অভিযোগ: জেতার পর পাঁচ বছর এলাকায় না আসা এবং কাজের অভাব।
  • বিতর্কিত বিষয়: ভোটারদের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান।
  • তৃণমূলের পদক্ষেপ: নির্বাচনী বিধিলঙ্ঘনের দায়ে কমিশনে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *