‘সাজাপ্রাপ্ত অনেক কিছুই জানে!’ RG Kar মামলায় CBI-কে এবার ‘আধুনিক’ হওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

আরজি কর মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এবং সত্য উদঘাটনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (সিবিআই) আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সিবিআই যে কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবে। দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন আদালতের প্রধান লক্ষ্য।
বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে থাকতে পারে। তাই তাকে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের প্রয়োজনে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে।
তদন্তে প্রযুক্তির প্রয়োগ ও নতুন মোড়
আদালত সিবিআইকে কোনো প্রকার দ্বিধা না করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে কয়েকটি বিশেষ দিক তুলে ধরা হয়েছে:
- আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: ফরেনসিক বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মামলার কিনারা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নতুন করে জেরা: আদালত মনে করছে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- প্রমাণ যাচাই: নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ডিএনএ প্রোফাইল এবং অডিও রেকর্ড গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে আগামী শুনানিতে রিপোর্ট জমা দেবে।
আদালত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চ মাসে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি রিলিজ করে দিয়েছিল। সেই সময় জানানো হয়েছিল যে, দীর্ঘ শুনানির প্রয়োজন এমন মামলা দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে নতুন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি শুরু হওয়ায় তদন্তে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার শুরু থেকেই মামলার দীর্ঘসূত্রিতা এবং সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। দ্রুত শুনানির জন্য তাদের আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত এই সক্রিয়তা দেখাচ্ছে।
তদন্তের প্রভাব ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
আরজি করের মতো একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় আদালতের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অডিও রেকর্ড এবং ডিএনএ প্রোফাইলের মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলো সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে তদন্তে বড় ধরনের সাফল্য আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
একঝলকে
- আদালত: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ।
- মূল নির্দেশ: সিবিআইকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত ও প্রয়োজনে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ।
- গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ: পরিবারের দেওয়া ডিএনএ প্রোফাইল ও অডিও রেকর্ড খতিয়ে দেখবে সিবিআই।
- পরবর্তী শুনানি: ১২ মে, ২০২৬।
- প্রেক্ষাপট: মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এই তৎপরতা।