পোপের যুদ্ধবিরোধী ভাষণে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন, ভ্যাটিকান দূতকে হোয়াইট হাউসের কড়া হুঁশিয়ারি

পোপের যুদ্ধবিরোধী ভাষণে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন, ভ্যাটিকান দূতকে হোয়াইট হাউসের কড়া হুঁশিয়ারি

বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যে সংঘাত এক নতুন মাত্রা নিয়েছে। সম্প্রতি পোপের দেওয়া যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ভাষণে হোয়াইট হাউস তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, ভ্যাটিকানের মার্কিন দূতকে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ডেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পোপ যেন তাঁর অবস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও পক্ষকে প্রাধান্য দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে এই উত্তেজনার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

পোপ লিও চতুর্দশ দীর্ঘসময় ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও আক্রমণাত্মক বিদেশ নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। গত জানুয়ারিতে এক ভাষণে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, বর্তমানে ঐকমত্য-ভিত্তিক কূটনীতি পেশিশক্তির কূটনীতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এরপরই আমেরিকার সামরিক শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভ্যাটিকান দূতকে সতর্ক করা হয়েছিল। বিশেষ করে গত ৯ জানুয়ারি পোপ যখন তাঁর বার্ষিক ভাষণে ‘যুদ্ধ আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে’ বলে মন্তব্য করেন, তখন থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজের অনড় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন সামরিক জাহাজ ও যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সংলগ্ন এলাকাতেই অবস্থান করবে। ইরান যদি সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে, তবে সেখানে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পোপ যখন শান্তি ও সমঝোতার কথা বলছেন, তখন ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর সামরিক অবস্থান দুই পক্ষের আদর্শিক সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে নামমাত্র সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হলেও লেবানন ইস্যুতে তা এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। বুধবার লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স সাফ জানিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননের কোনো উল্লেখ নেই। ফলে লেবাননে হামলা বন্ধ রাখার কোনো প্রতিশ্রুতি তাঁরা দেননি বলেই দাবি করেছেন। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পোপের শান্তি রক্ষার আহ্বানকে হোয়াইট হাউস সরাসরি মার্কিন স্বার্থবিরোধী হিসেবেই দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *