হকারদের চিরস্থায়ী পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি, দুর্গাপুরে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ কবি দত্তের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত তাঁর নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন। দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। গত বছর আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (এডিডিএ) উদ্যোগে হওয়া উচ্ছেদ নিয়ে বিরোধীদের যাবতীয় সমালোচনা ও বিতর্কে জল ঢেলে শিল্পাঞ্চলের মানুষের জন্য একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের সমস্যা সমাধানে কবি দত্ত জানান যে, বিরোধীরা এই বিষয়ে মনগড়া গল্প ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। হকারদের জন্য চিরস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে অল্প ভাড়ার বিনিময়ে আধুনিক কিয়স্ক তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, স্থানীয় কলকারখানাগুলোতে বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে। যেকোনো বাধা অতিক্রম করে বেকারদের রুজি-রুটির নিশ্চয়তা প্রদান করাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচনী ইস্তেহারে দুর্গাপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণ এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জমির পাট্টা প্রদান এবং জমির পুনর্নবীকরণের মতো বিষয়গুলোও ইস্তেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কর্মসূচি প্রকাশের সময় প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর নগর নিগমের চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় ও ব্লক সভাপতি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থীর এই ইস্তেহারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। পদ্ম শিবিরের প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূলের আমলে বহিরাগতদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কলকারখানাগুলোর সাথে যোগসাজশ করে টাকার বিনিময়ে কাজ দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়ে বেকার সমস্যা সমাধানের দাবি তুলেছেন। এডিডিএ-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান কবি দত্তকে ঘিরেই যখন হকার উচ্ছেদের বিতর্ক আবর্তিত হচ্ছে, তখন তাঁর এই পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দুর্গাপুরের ভোটের সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।