ব্যক্তি মারা গেলেও কি ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়? আইটিআর ফাইল নিয়ে পরিবারের জন্য জরুরি নিয়ম!

ব্যক্তি মারা গেলেও কি ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়? আইটিআর ফাইল নিয়ে পরিবারের জন্য জরুরি নিয়ম!

আয়কর দাতা ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার কর সংক্রান্ত সমস্ত দায়ভার কি শেষ হয়ে যায়? সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই এই প্রশ্নটি উঁকি দেয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী অনেকে মনে করেন মৃত্যুতেই সব হিসাব চুকে যায়, কিন্তু আয়কর আইনের বাস্তবতা ভিন্ন। আয়কর আইনের ধারা ১৫৯ অনুযায়ী, করদাতার মৃত্যুর পর তার বকেয়া কর পরিশোধ এবং ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) দাখিল করার আইনি বাধ্যবাধকতা তার উত্তরাধিকারী বা আইনি প্রতিনিধির ওপর বর্তায়।

আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে মৃত ব্যক্তির কর সংক্রান্ত এই বিধানগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

উত্তরাধিকারীর দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতা

আয়কর আইন অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির অর্জিত আয়ের ওপর কর দেওয়ার দায়িত্ব তার উত্তরাধিকারীর। তবে এই দায়বদ্ধতার একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। উত্তরাধিকারী কেবল মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তির অর্থমূল্য পর্যন্ত কর দিতে বাধ্য থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে ৫ লাখ টাকার সম্পত্তি পান কিন্তু মৃত ব্যক্তির করের পরিমাণ ৭ লাখ টাকা হয়, তবে উত্তরাধিকারীকে কেবল ৫ লাখ টাকাই পরিশোধ করতে হবে। অবশিষ্ট ২ লাখ টাকার জন্য তাকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করতে বাধ্য করা যাবে না।

আইটিআর দাখিলের প্রক্রিয়া

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রিটার্ন দাখিল করার জন্য উত্তরাধিকারীকে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়:

  • নিবন্ধন: প্রথমেই আয়কর বিভাগের অফিসিয়াল ই-ফাইলিং পোর্টালে গিয়ে উত্তরাধিকারীকে নিজেকে ‘মৃত ব্যক্তির প্রতিনিধি’ হিসেবে নিবন্ধিত করতে হবে।
  • অনুমোদন: নিবন্ধনের পর বিভাগীয় অনুমোদনের পরেই কেবল মৃত ব্যক্তির পক্ষে রিটার্ন ফাইল করা সম্ভব হয়।
  • প্রয়োজনীয় নথিপত্র: এই প্রক্রিয়ার জন্য মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ (Death Certificate), মৃত ব্যক্তির প্যান কার্ড, উত্তরাধিকারীর প্যান কার্ড এবং উত্তরাধিকারী হওয়ার আইনি প্রমাণপত্র প্রয়োজন।

কর পরিশোধ না করলে আইনি পরিণতি

যদি উত্তরাধিকারী সময়মতো মৃত ব্যক্তির কর পরিশোধ না করেন বা রিটার্ন দাখিল করতে অবহেলা করেন, তবে আয়কর বিভাগ মৃত ব্যক্তির নামেই নোটিশ জারি করতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর জমা না দিলে সাধারণ করদাতার মতোই বিলম্বিত করের ওপর সুদ এবং জরিমানা আরোপিত হবে। এক্ষেত্রে জরিমানার অর্থ উত্তরাধিকারীকে বহন করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু সতর্কতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। কারণ যদি কোনো ট্যাক্স রিফান্ড বা কর ফেরত পাওয়ার থাকে, তবে তা ওই নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই জমা হবে। এছাড়া উত্তরাধিকার সংক্রান্ত শংসাপত্র এবং প্রয়োজনীয় দলিলাদি সযত্নে রাখা প্রয়োজন যাতে আইনি জটিলতা এড়ানো যায়।

একঝলকে

  • মৃত্যুর পরও করদাতার উপার্জিত আয়ের ওপর ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
  • আইন অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন করেন মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকারী।
  • উত্তরাধিকারীর কর প্রদানের সীমা কেবল প্রাপ্ত সম্পত্তির মূল্য পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
  • রিটার্ন দাখিলের আগে আয়কর পোর্টালে ‘প্রতিনিধি’ হিসেবে নিবন্ধন করা জরুরি।
  • অবহেলার কারণে কর বকেয়া থাকলে উত্তরাধিকারীকে জরিমানা ও সুদ দিতে হতে পারে।
  • কর রিফান্ড পাওয়ার সুবিধার্থে মৃত ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রাখা শ্রেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *