লাশ হয়ে পড়ে সহকর্মী, পাশ কাটিয়েই চলল প্যাকিং! অ্যামাজন গুদামে অমানবিকতার চূড়ান্ত সীমা

লাশ হয়ে পড়ে সহকর্মী, পাশ কাটিয়েই চলল প্যাকিং! অ্যামাজন গুদামে অমানবিকতার চূড়ান্ত সীমা

আমেরিকার ওরেগনের ট্রাউটডেল এলাকায় অ্যামাজনের একটি ওয়্যারহাউসে কর্মব্যস্ততার মাঝেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। নিজের কর্মস্থলেই প্রাণ হারালেন ৪৬ বছর বয়সী এক কর্মী, আর সেই মৃতদেহ পাশ কাটিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ চালিয়ে গেলেন বাকিরা। এই ঘটনাটি আধুনিক কর্পোরেট জগতের অমানবিক মুখকে আরও একবার জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।

সহকর্মীর মৃত্যু ও কর্তৃপক্ষের নিস্পৃহতা

গত সোমবার সপ্তাহের শুরুর দিনটিতে যথারীতি ব্যস্ত ছিল অ্যামাজনের ওই বিশাল গুদামঘর। পণ্য প্যাকিং ও স্ক্যানিংয়ের কাজ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এক মধ্যবয়সী কর্মী। অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যক্তি মাটিতে পড়ে থাকার পরও প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় কেউ তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। সহকর্মীরা যখন আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে কাজের গতি বজায় রাখতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন ম্যানেজাররা।

‘ও দিকে তাকিও না’ অমানবিক নির্দেশ

ঘটনার নৃশংসতা আরও বৃদ্ধি পায় যখন এক সুপারভাইজার কর্মীদের শোক প্রকাশ করতে বাধা দেন। প্রত্যক্ষদর্শী এক কর্মীর বর্ণনা অনুযায়ী, কান্নারত অবস্থায় সহকর্মীর মৃত্যুর খবর জানানো হলে সুপারভাইজার অত্যন্ত নিস্পৃহভাবে উত্তর দেন, “ও দিকে তাকিও না, উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যাও।” এই মন্তব্যটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

যান্ত্রিকতার চাপে হারিয়ে যাওয়া মনুষ্যত্ব

মৃতদেহটি দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও গুদামের অন্যান্য অংশে কাজ এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি। একদিকে যখন এক ব্যক্তির নিথর দেহ পড়ে ছিল, অন্যদিকে তখন রোবটের মতো পণ্য লোডিং-আনলোডিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন বাকিরা। এই ঘটনা কর্মীদের মধ্যে গভীর মানসিক ট্রমা বা ট্রমার সৃষ্টি করেছে। অনেক কর্মী জানিয়েছেন, ওই ভবনে পুনরায় প্রবেশ করতে তাঁরা আতঙ্ক বোধ করছেন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও সামাজিক ক্ষোভ

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই অ্যামাজনের কাজের পরিবেশ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং কর্মীদের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাবকে এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মানুষের প্রাণের চেয়ে কি কাজের লক্ষ্যমাত্রা (Target) পূরণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এই ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকটের বহিঃপ্রকাশ।

একঝলকে

  • ঘটনাস্থল: ট্রাউটডেল, ওরেগন (আমেরিকা), অ্যামাজন ওয়্যারহাউস।
  • ভুক্তভোগী: ৪৬ বছর বয়সী এক পুরুষ কর্মী।
  • মূল অভিযোগ: মৃতদেহ পাশে রেখেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ।
  • কর্তৃপক্ষের ভূমিকা: সুপারভাইজারের অমানবিক মন্তব্য এবং কাজ না থামানোর নীতি।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *