অধ্যাপকের লালসার বলি পিএইচডি ছাত্রী! স্ট্যাম্প পেপারে দোষ কবুল করেও শেষরক্ষা হলো না

অধ্যাপকের লালসার বলি পিএইচডি ছাত্রী! স্ট্যাম্প পেপারে দোষ কবুল করেও শেষরক্ষা হলো না

পুনেতে বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (বিএসআই) এক মেধাবী পিএইচডি ছাত্রীর আত্মহত্যা উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের অন্ধকার দিকটি সামনে এনেছে। নিজের গাইডের হাতে দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন এই তরুণী। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রফেসরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

বিপত্তির শুরু ও প্রফেসরের লিখিত স্বীকারোক্তি

ঘটনার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য দিক হলো অভিযুক্ত প্রফেসর ড. এ বিনিয়ামিন তরুণীর আত্মহত্যার মাত্র দুই দিন আগে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। তিনি ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে তিনি ভুল করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ আর করবেন না। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ভুক্তভোগী ছাত্রীর মানসিক ক্ষত তাতে সারেনি। স্ট্যাম্প পেপারের সেই বয়ানই এখন প্রফেসরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা মানসিক যন্ত্রণা

নিহত ছাত্রী পুনের শাহুনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং বোটানি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তাঁর সুইসাইড নোটে গাইডের মাধ্যমে হওয়া ভয়াবহ হেনস্থার বর্ণনা রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ অনুসারে প্রফেশনাল গাইডের প্রভাব খাটিয়ে ওই প্রফেসর তরুণীকে ক্রমাগত মানসিক চাপের মুখে রাখতেন। লোকলজ্জা এবং ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার ভয়ে দীর্ঘ সময় মুখ বুজে সহ্য করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ভেঙে পড়েন।

আক্ষেপ ও পুলিশের তৎপরতা

আত্মহত্যার ঠিক আগে তরুণী তাঁর এক বন্ধুকে ফোন করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। সেই বন্ধু দ্রুত তাঁর বাড়িতে পৌঁছালেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএসআই-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদমর্যাদার ড. বিনিয়ামিনকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনে প্রভাব ও সামাজিক বিশ্লেষণ

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ‘গাইড’ বা শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্ষমতা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গবেষণার কাজে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে গাইডের ওপর নির্ভরশীল থাকায় এমন শোষণের সুযোগ তৈরি হয়। সচেতন মহল মনে করছে কেবল আইনি ব্যবস্থা নয় বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

একঝলকে

  • ঘটনাস্থল: বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (বিএসআই), পুনে।
  • নিহত: পিএইচডি গবেষণারত এক তরুণী ছাত্রী।
  • অভিযুক্ত: প্রফেসর ড. এ বিনিয়ামিন (অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর)।
  • মূল প্রমাণ: প্রফেসরের নিজের হাতে লেখা স্ট্যাম্প পেপার স্বীকারোক্তি এবং ছাত্রীর সুইসাইড নোট।
  • বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত প্রফেসর পুলিশি হেফাজতে আছেন এবং তদন্ত চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *