‘যুদ্ধ এবার শেষের পথে’, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের মাঝেই বড় ঘোষণা ট্রাম্পের!

‘যুদ্ধ এবার শেষের পথে’, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের মাঝেই বড় ঘোষণা ট্রাম্পের!

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবহরের কঠোর অবরোধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। অবরোধের প্রথম দিনেই এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে ইরানের ওপর। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে প্রথম দিন ইরানের কোনো বন্দর থেকে একটি জাহাজও সমুদ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়নি। এমনকি মার্কিন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান বাদে অন্য দেশের জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই এই প্রণালী পার হয়েছে।

কূটনৈতিক চাপে ইরান ও ট্রাম্পের রণকৌশল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে তার প্রশাসনের একটি বড় কৌশলগত জয় হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কোনো ধরনের রক্তক্ষয় বা বড় সংঘাত ছাড়াই ইরানকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে চাপে ফেলা সম্ভব হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন পদক্ষেপের কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সফল হতে পারেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানান, সংঘাত এখন প্রায় শেষের পথে। যদিও ব্যক্তিগত স্তরে তিনি যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বলছেন, তবে জনসমক্ষে তিনি বিষয়টিকে ‘শেষের কাছাকাছি’ বলেই অভিহিত করছেন।

ইরানের নীরবতা ও বর্তমান স্থিতাবস্থা

অবরোধের প্রথম দিনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা আক্রমণ বা উস্কানিমূলক পদক্ষেপের অভাব। ইরান বর্তমানে পুরোপুরি নিশ্চুপ রয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে একটি পরিকল্পিত কৌশল হতে পারে। কোনো গুলি না চালিয়েই ইরানকে চাপে রাখার এই পদ্ধতি আমেরিকার এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই মুহূর্তে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে আগামী দিনগুলোতে তেহরান এই চাপ মুখ বুজে সহ্য করবে নাকি নতুন কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। বর্তমানে মার্কিন অবরোধ শুধুমাত্র ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় কোনো বিপর্যয় আসেনি। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় তেলের বাজারেও আপাতত স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তবে এই অবরোধ দীর্ঘমেয়াদী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

একঝলকে

  • হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ শুরু।
  • অবরোধের প্রথম দিনে ইরানের কোনো জাহাজ বন্দর ছাড়েনি।
  • মার্কিন সতর্কবার্তা পেয়ে ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ পথ পরিবর্তন করেছে।
  • গত ২৪ ঘণ্টায় ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক জাহাজ নির্বিঘ্নে প্রণালী পার হয়েছে।
  • ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি যুদ্ধ এখন প্রায় শেষের পথে।
  • পুরো ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইরান কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *