১৫ মে-র পর ভারতে মহাপ্রলয়? আনন্দ শ্রীনিবাসনের ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তায় কাঁপছে দেশ!

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ভারতীয় অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট আর্থিক বিশ্লেষক আনন্দ শ্রীনিবাসন। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে চলা এই অস্থিরতার জেরে আগামী ১৫ মে-র পর ভারতে এক ভয়াবহ আর্থিক সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো ভারতের জ্বালানি খাতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি বিশ্লেষণ করেছেন।
হোরমুজ প্রণালী অবরোধ ও জ্বালানি সরবরাহে টান
শ্রীনিবাসন উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকা তাদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে হোরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানির প্রধান পথ এটি হওয়ায় এর প্রভাব হবে তাৎক্ষণিক। বর্তমানে যেখানে প্রতিদিন ১০টি জাহাজ আসার কথা, সেখানে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে দুই দিনে মাত্র দুটি জাহাজ আসছে।
জ্বালানি রেশন ও সাধারণ মানুষের সংকট
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শ্রীনিবাসন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছেন:
- জ্বালানি রেশন: ১৫ মে-র পর দেশে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের সরবরাহ সীমিত বা ‘রেশনিং’ করতে বাধ্য হতে পারে।
- হোটেল শিল্পে প্রভাব: গ্যাসের ঘাটতির কারণে ইতিমধ্যেই অনেক হোটেল তাদের মেনু থেকে পদের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। আগামী দিনে এই সংকট অন্যান্য শিল্পেও ছড়িয়ে পড়বে।
- মজুত তেলের স্বল্পতা: ড. মনমোহন সিং-এর সময় যে জরুরি তেল ভাণ্ডার (Oil Reserves) তৈরি করা হয়েছিল, তা বর্তমানে অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই মজুত সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জিডিপি-র ওপর প্রভাব
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ভারতের খুচরা বাজারে তেলের দাম আরও ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। শ্রীনিবাসনের মতে, আমেরিকা ও ইরানের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ না হলে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে এবং দেশ এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে।
একঝলকে
- ১৫ মে এরপর ভারতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস।
- হোরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় বিঘ্ন।
- পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস ‘রেশনিং’ করার সম্ভাবনা।
- জরুরি তেল ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসায় বাড়ছে উদ্বেগ।
- অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত খরচের চাপ।