“শত্রুর মনোবল ভাঙাই আসল লক্ষ্য”, যুদ্ধের ময়দান নিয়ে এ কী বললেন অজিত ডোভাল?

“শত্রুর মনোবল ভাঙাই আসল লক্ষ্য”, যুদ্ধের ময়দান নিয়ে এ কী বললেন অজিত ডোভাল?

বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক তখনই জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এবং ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষের আবহে ডোভালের এই বিশ্লেষণ ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা কৌশলের এক গভীর প্রতিফলন।

যুদ্ধের আসল লক্ষ্য ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াই

গান্ধীনগরের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অজিত ডোভাল স্পষ্ট জানান যে, আধুনিক যুগে যুদ্ধের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে। তার মতে, যেকোনো যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য কেবল ভূখণ্ড দখল নয়, বরং প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের ‘মনোবল’ বা ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেওয়া। যখন একটি দেশের মনোবল ভেঙে যায়, তখনই সে অন্য রাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে বা সন্ধি করতে বাধ্য হয়।

অপারেশন সিন্দুর এবং পাকিস্তানের শিক্ষা

গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ডোভালের এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করলে পাকিস্তান ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। সেই সময় কেবল সীমান্তে নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিশাল ‘ন্যারেটিভ ওয়ার’ বা তথ্যের লড়াই চলেছিল। ডোভাল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সেই সময় ভারতীয় জনমানসের মনোবল দুর্বল করার পরিকল্পিত চেষ্টা করা হয়েছিল।

জাতীয় নিরাপত্তায় সাধারণ মানুষের ভূমিকা

অজিত ডোভাল মনে করেন, দেশের নিরাপত্তা কেবল সেনাবাহিনী, পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব নয়। তার বিশ্লেষণের মূল পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • দেশের সাধারণ মানুষের সচেতনতাই হলো জাতীয় নিরাপত্তার আসল শক্তি।
  • দীর্ঘ সময় পর ভারতের জনগণের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এক নতুন জাগৃতি দেখা যাচ্ছে।
  • জনতার সম্মিলিত শক্তিই একটি রাষ্ট্রের অজেয় মনোবল তৈরি করে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি বার্তা

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণারত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডোভাল বলেন যে, এই ক্ষেত্রে যারা কাজ করবেন তাদের চরিত্রে শৃঙ্খলা এবং মানসিক দৃঢ়তা থাকা অপরিহার্য। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উপস্থিতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পেশাদারিত্বের পাশাপাশি দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্যের চাবিকাঠি।

একঝলকে

  • যুদ্ধের মূল লক্ষ্য প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে নিজের শর্ত মানতে বাধ্য করা।
  • আমেরিকা-ইরান ও ইজরায়েল সংকটের মাঝে ভারতের এই অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত।
  • অপারেশন সিন্দুর পরবর্তী পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দেশের ভেতরের সচেতনতায় গুরুত্ব।
  • নিরাপত্তা কেবল বাহিনীর নয়, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
  • ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের জন্য শৃঙ্খলা ও মানসিক শক্তির ওপর জোর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *