“তামিলনাড়ু স্তব্ধ করে দেব!” কেন্দ্রের পরিসীমন নীতির বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে স্টালিন, জরুরি বৈঠক তলব

“তামিলনাড়ু স্তব্ধ করে দেব!” কেন্দ্রের পরিসীমন নীতির বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে স্টালিন, জরুরি বৈঠক তলব

নারী সংরক্ষণ বিল এবং লোকসভা কেন্দ্রের আসন পুনর্বিন্যাস বা পরিসীমন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এম.কে. স্ট্যালিন দলের সাংসদদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বুধবার বেলা ১১টায় নির্বাচনী ব্যস্ততার মাঝেই ধর্মপুরী থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মূলত সংসদে দলের অবস্থান এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করাই এই সভার মূল লক্ষ্য।

পরিসীমন নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন দক্ষিণ ভারত

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত পরিসীমন প্রক্রিয়া নিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছে। মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের মতে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করা হলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতা অন্যায্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলো যারা সফলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারা সংসদে গুরুত্ব হারাবে। স্ট্যালিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলে ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকের মতো বড় মাপের গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যা পুরো রাজ্যকে অচল করে দিতে পারে।

নারী সংরক্ষণ বিল ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

স্ট্যালিন অভিযোগ করেছেন যে, নারী সংরক্ষণ বিলের বর্তমান খসড়া একটি গভীর ‘ষড়যন্ত্র’। তার দাবি, এই বিল কার্যকর করার বিষয়টিকে পরিসীমন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এটি পরোক্ষভাবে তামিলনাড়ু এবং উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে বৈষম্য ও ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি মনে করেন, এটি শুধুমাত্র নারীদের অধিকারের বিষয় নয়, বরং এর আড়ালে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

দক্ষিণের ঐক্য ও হিব্রিড মডেলের প্রস্তাব

এই ইস্যুতে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মধ্যে একতা তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি সম্প্রতি দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো এবং পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি পরিসীমন নিয়ে একটি ‘হিব্রিড মডেল’ প্রস্তাব করেছেন। এই মডেলে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত আসন জনসংখ্যার অনুপাতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আসন রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GSDP) ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক মানদণ্ডের ভিত্তিতে বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। রেবন্ত রেড্ডির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্ট্যালিন বলেন যে, দক্ষিণের রাজ্যগুলো ফেডারেল কাঠামো রক্ষায় একযোগে কাজ করবে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

ডিএমকে-র এই অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। স্ট্যালিনের বক্তব্যে ফেডারেলিজম বা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি দক্ষিণের রাজ্যগুলো এই ইস্যুতে একজোট হয়, তবে তা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস থাকায় স্ট্যালিনের আন্দোলনের হুমকিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন।

একঝলকে

দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার ডাক।

পরিসীমন ইস্যুতে ডিএমকে সাংসদদের নিয়ে এম.কে. স্ট্যালিনের জরুরি বৈঠক।

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি।

নারী সংরক্ষণ বিলের নেপথ্যে ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আসন পুনর্বিন্যাসে ‘হিব্রিড মডেল’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *