নাশিক টিসিএস-এ ‘লাভ জিহাদ’ রহস্য! সাফাইকর্মী সেজে আইটি অফিসে পুলিশের হানা, ফাঁস আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র!

নাশিক টিসিএস-এ ‘লাভ জিহাদ’ রহস্য! সাফাইকর্মী সেজে আইটি অফিসে পুলিশের হানা, ফাঁস আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র!

ভারতের অন্যতম শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) নাসিক শাখায় এক ভয়াবহ ‘কর্পোরেট প্রেম জাল’ ও জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগ সামনে এসেছে। আইটি পেশাদারদের লক্ষ্য করে চালানো এই সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকড় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য, যা বর্তমান কর্পোরেট জগতের নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ছদ্মবেশে পুলিশের দুঃসাহসিক অভিযান

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক রাজনৈতিক কর্মীর কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই রহস্যের তদন্ত শুরু করে নাসিক পুলিশ। অভিযোগ ছিল, টিসিএসের এক হিন্দু তরুণী কর্মীকে কৌশলে ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করে। চারজন পুলিশ কর্মকর্তা পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ছদ্মবেশে প্রায় ১৫ দিন ওই দপ্তরে কাজ করেন। ঘর পরিষ্কার এবং আবর্জনা সরানোর আড়ালে তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন সন্দেহভাজনদের গতিবিধি। এই ছদ্মবেশী অভিযানে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজের চোখে দেখেন কীভাবে দলনেতাদের মদতে তরুণীদের ওপর ধর্ম পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি এবং যৌন হেনস্থা চালানো হচ্ছিল। তদন্তের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ৯টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক যোগসূত্র এবং মালয়েশিয়া সংযোগ

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই ধর্মান্তর প্রক্রিয়ার নেপথ্যে বিদেশের হাত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযুক্তদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বিশ্লেষণ করে মালয়েশিয়ার জনৈক ধর্মপ্রচারক ‘ইরমান’-এর নাম উঠে এসেছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে ওই ব্যক্তি তরুণীদের মগজ ধোলাই করার চেষ্টা করত বলে জানা গেছে। এই কর্মকাণ্ডে বিদেশ থেকে কোনো অর্থসাহায্য আসছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ইতিধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে। বর্তমানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধানে কাজ করছে।

এইচআর ম্যানেজার নিদা খানের মাস্টারপ্ল্যান ও ব্ল্যাকমেইল

এই চক্রের প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে এইচআর ম্যানেজার নিদা খানকে, যিনি বর্তমানে পলাতক। তদন্তে দেখা গেছে, মূলত ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের লক্ষ্যবস্তু করত এই চক্রটি। মাসিক ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতনের এই চাকরিজীবীদের পদোন্নতির লোভ দেখিয়ে এবং কাজের চাপ বাড়িয়ে প্রথমে কাবু করা হতো। এরপর তাদের ব্যক্তিগত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বা আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে লড়াকু তরুণীদের নতি স্বীকার করতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, নিদা খান তার প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানাতে বাধা দিতেন।

টাটা গ্রুপের কঠোর অবস্থান ও আইনি ব্যবস্থা

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরন। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যৌন হেনস্থা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের নীতি ‘জিরো টালরেন্স’। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অভিযুক্ত আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন এবং তৌসিফ আত্তারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরিশ মহাজন এই ঘটনাকে এক গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে নিদা খানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ, যার মাধ্যমে এই মাফিয়ার আসল মূল উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একঝলকে

  • নাসিক টিসিএস শাখায় কর্মরত তরুণীদের টার্গেট করে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ।
  • সত্য উদ্ঘাটনে ১৫ দিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ছদ্মবেশে পুলিশের নিবিড় পর্যবেক্ষণ।
  • মালয়েশিয়ার ধর্মপ্রচারক ‘ইরমান’-এর সাথে অভিযুক্তদের সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ।
  • এইচআর ম্যানেজার নিদা খানের নেতৃত্বে সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও শোষণের ছক।
  • টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ৫ কর্মীকে বরখাস্ত ও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু।
  • ঘটনার গভীরতা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) নিয়োজিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *