লোকসভায় দক্ষিণের ৫ রাজ্যের আসন কি বাড়বে? অমিত শাহ দিলেন বড় আপডেট!

লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যের আসন কমবে না, বরং বাড়বে: অমিত শাহ
দেশের লোকসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে যে রাজনৈতিক জল্পনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, নতুন বিন্যাসে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর লোকসভা আসন সংখ্যা বর্তমানের ১২৯ থেকে বেড়ে ১৯৫-এ পৌঁছাবে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো জনসংখ্যার পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য নির্বাচনী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
দক্ষিণের রাজ্যগুলোর নতুন আসন বিন্যাস
অমিত শাহের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্নির্ধারণের পরে দক্ষিণের পাঁচটি রাজ্যের কারোই প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং প্রতিটি রাজ্যেই সাংসদ সংখ্যা বাড়বে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, কর্ণাটকে ২৮ থেকে বেড়ে ৪২, অন্ধ্রপ্রদেশে ২৫ থেকে ৩৮, তেলেঙ্গানায় ১৭ থেকে ২৬, তামিলনাড়ুতে ৪৯ থেকে ৫৯ এবং কেরালায় ২০ থেকে ৩০টি আসন হবে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে লোকসভায় ওই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের হার বর্তমানের ২৩.৭৬ শতাংশ থেকে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ২৩.৯৭ শতাংশে দাঁড়াবে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, সীমানা নির্ধারণ কমিশন আইনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি, যা স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
এই পুনর্নির্ধারণের ফলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর மக்களসভা গঠিত হবে, যেখানে প্রতিটি রাজ্যের ভোটারদের গুরুত্ব সমানভাবে বজায় থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে চলমান সেই বিতর্ক থামানোর একটি প্রয়াস, যেখানে দক্ষিণী রাজ্যগুলো ভয় পাচ্ছিল যে জনসংখ্যার কম বৃদ্ধি হারের কারণে উত্তর ভারতের তুলনায় তাদের রাজনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতা কমে যাবে। এই আশঙ্কার বিপরীতে শাহের গাণিতিক ব্যাখ্যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, সীমানা পুনর্নির্ধারণে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর লোকসভা সদস্য সংখ্যা ১২৯ থেকে বেড়ে ১৯৫ হবে।
- পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু ও কেরালা—প্রতিটি রাজ্যেই লোকসভা আসন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
- নতুন কাঠামোর ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সামগ্রিক প্রতিনিধিত্বের হার ২৩.৭৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৯৭ শতাংশে পৌঁছাবে।
- সীমানা নির্ধারণ কমিশন আইনে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।