আইপ্যাকের ‘ভুয়ো প্রেস কার্ড’ কেলেঙ্কারি! তৃণমূল কর্মীদের সাংবাদিক সাজানোর বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

ভুয়ো প্রেস কার্ড দিয়ে বুথ দখলের ছক? আইপ্যাক নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর
কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক (I-PAC) ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল এই ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কয়েক হাজার ভুয়ো প্রেস কার্ড তৈরি করেছে আইপ্যাক। এই কার্ডগুলি তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে, যাতে তারা সাংবাদিকের ছদ্মবেশে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা স্পর্শকাতর প্রশাসনিক এলাকায় অনায়াসেই ঢুকে পড়তে পারেন। শুভেন্দুর ভাষায়, এটি আসলে “কাকের গায়ে ময়ূর পুচ্ছ লাগিয়ে ময়ূর সাজানোর” অপচেষ্টা।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড়সড় হুমকির আশঙ্কা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার এই ব্লু-প্রিন্ট অবাধ নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি। সাংবাদিক পরিচয়ে বুথের ভেতরে ঢুকে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ছাপ্পা ভোটের পরিবেশ তৈরি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী শিবির সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাসে রাজ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত নতুন প্রেস কার্ড ও অ্যাক্রেডিটেশন লেটার দ্রুত পরীক্ষার। জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যেকোনো সন্দেহভাজন ‘সাংবাদিকের’ নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা হয়। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের এমন অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- প্রধান অভিযোগ: সাংবাদিকের ভুয়ো আইডি কার্ড তৈরি করে তৃণমূল কর্মীদের বুথে ঢোকানোর ব্লু-প্রিন্ট ছকেছে আইপ্যাক।
- উদ্দেশ্য: ভোটারদের ভয় দেখানো, নজরদারি এড়িয়ে ছাপ্পা ভোটের পরিবেশ তৈরি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা।
- পদক্ষেপ: বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
- প্রশাসনিক নির্দেশ: নতুন প্রেস কার্ডধারীদের নথিপত্র কঠোরভাবে যাচাই করার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।