ইরানের ইউরেনিয়াম কি শেষ পর্যন্ত পাড়ি দেবে আমেরিকায়! ট্রাম্পের বিশাল পরিকল্পনা ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

তেহরানের কড়া আপত্তির তোয়াক্কা না করেই ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ব্যাপারে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যারিজোনার ফিনিক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, তেহরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলো থেকে ইউরেনিয়াম সরাতে বিশাল আকৃতির খননকারী যন্ত্র বা ‘মেগা এক্সক্যাভেটর’ ব্যবহার করা হবে। ট্রাম্পের মতে, এই প্রক্রিয়াটি ইরানের সঙ্গেই যৌথভাবে সম্পন্ন করবে আমেরিকা এবং খুব দ্রুতই সেই ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ মার্কিন মাটিতে পৌঁছে যাবে।
মেগা এক্সক্যাভেটর দিয়ে পরমাণু সাফাই
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে তিনি এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্বের সবথেকে বড় বড় খননকারী যন্ত্র দিয়ে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বের করে আনা হবে। যদিও ইরান সরকার শুরু থেকেই তাদের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার হস্তান্তরের বিষয়টি নাকচ করে আসছে, তবুও ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগেই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শান্তি চুক্তির পথে এখন আর বড় কোনো বাধা অবশিষ্ট নেই।
তেহরানের পাল্টা হুঙ্কার ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইউরেনিয়াম আনার ছক সাজাচ্ছেন, তখন ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটির বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার ইরান ছেড়ে অন্য কোথাও যাবে না। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যেই এই ইউরেনিয়াম মজুত করছে। এই টানাপড়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তবে ট্রাম্পের বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত কূটনীতি বা চাপের মুখে ইরান এই শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে।
এই সংঘাতের কেন্দ্রে থাকা ইউরেনিয়াম বা ট্রাম্পের ভাষায় ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ নিয়ে বৈশ্বিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যদি সত্যিই আমেরিকা বলপ্রয়োগ করে বা কোনো চুক্তির মাধ্যমে এই বিশাল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ সরাতে শুরু করে, তবে তা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা হবে। ট্রাম্পের এই ‘সাফাই অভিযান’ সফল হলে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা কার্যত শূন্যে নেমে আসবে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করবে।
এক ঝলকে
- ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকায় নিয়ে আসার দাবিতে অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- পরমাণু কেন্দ্র পরিষ্কার করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খননকারী যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।
- ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি সরাসরি নাকচ করে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক।
- ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শান্তি চুক্তির পথে এখন আর তেমন কোনো বড় বাধা নেই।