“মোদী আসলে মিথ্যে বলছেন, মহিলাদের কাছে ওঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত”: প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাল্টা কড়া তোপ খাড়গের

“মোদী আসলে মিথ্যে বলছেন, মহিলাদের কাছে ওঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত”: প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাল্টা কড়া তোপ খাড়গের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক দেশবাসীকে দেওয়া ভাষণকে স্রেফ একটি ‘রাজনৈতিক বক্তৃতা’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সত্যের লেশমাত্র নেই এবং তিনি সরকারি কলকব্জা ব্যবহার করে বিরোধীদের ওপর কাদা ছোড়াছুড়ি করেছেন। কংগ্রেসের দাবি, নারী সংরক্ষণের নামে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রস্তাব সামনে এনে আসলে দেশের মহিলাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, যার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বিজেপির সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন

খাড়গের মতে, বিজেপি সরকার নারী শক্তি নিয়ে বড় বড় কথা বললেও তাদের কাজে তার প্রতিফলন নেই। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকেও মহিলারা বিজেপির অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১০ সালে কংগ্রেসই প্রথম রাজ্যসভায় নারী সংরক্ষণ বিল পাস করিয়েছিল, যা তখন লোকসভায় পাস হতে দেয়নি বিজেপি। বর্তমান সরকারের আনা বিলটি বাস্তবায়িত হতে কেন এত সময় লাগছে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

ভোটের আগে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫৪৩টি লোকসভা আসনেই মহিলাদের জন্য অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা উচিত। কিন্তু সরকার নারী সংরক্ষণের সাথে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিকে যুক্ত করে জটিলতা তৈরি করছে। খাড়গের অভিযোগ, নির্বাচনী মানচিত্রকে নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তন করে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের হাথরস, উন্নাও কিংবা কুস্তিগীরদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেই নারী নির্যাতনের হার সর্বাধিক।

এক ঝলকে

ডিলিমিটেশন প্রস্তাবের মাধ্যমে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ খাড়গের।

নারী সংরক্ষণ বিল অবিলম্বে কার্যকর না করে সীমানা পুনর্নির্ধারণের অজুহাতে দেরি করার অভিযোগ।

বর্তমান সরকারকে নারী-বিরোধী আখ্যা দিয়ে হাথরস ও উন্নাও কাণ্ড নিয়ে তোপ দাগল কংগ্রেস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *