ক্ষুধায় কাতর কঙ্কালসার দেহ, জ্বলন্ত রোদে ছাদে নগ্ন অবস্থায় উদ্ধার নারী: মধ্যপ্রদেশের অমানবিক দৃশ্য!

মধ্যপ্রদেশের তীব্র দাবদাহের মধ্যে জনমানবহীন এক বাড়ির ছাদে প্রায় বিবস্ত্র ও কঙ্কালসার অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীকে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। ৪০ বছর বয়সী সীমা সোনি নামের ওই নারীকে গত ৪ থেকে ৫ মাস ধরে অবর্ণনীয় কষ্টে বাড়ির ছাদে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের দেখা মাত্রই ওই নারীর আর্তনাদ ছিল— “খুব খিদে পেয়েছে, আমায় একটু ভাত দিন।” নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগ এবং পুলিশের একটি যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই লোমহর্ষক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে।
অমানবিক নির্যাতনের চিত্র
দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং অবহেলায় সীমার শরীর এখন শুধুই অস্থির চর্মসার এক কাঠামো। অন্তত ৫ মাস ধরে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে খোলা ছাদে একটি ময়লা চাদর আঁকড়ে তিনি পড়ে ছিলেন। স্নান বা ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই ছিল না সেখানে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দৃশ্যটি ছিল কল্পনাতীত বিভীষিকাময়। বর্তমানে তাঁকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পারিবারিক দাবি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
সীমার স্বামী অজিত সোনির দাবি, ২০১৬ সাল থেকে তাঁর স্ত্রী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হয়েছে। বাড়িতে নির্মাণকাজ চলায় তাঁকে ছাদে রাখা হয়েছিল বলে তিনি সাফাই দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একজন অসুস্থ মানুষকে প্রখর রোদে নগ্ন অবস্থায় ফেলে রাখাকে ‘ক্রুরতা’ হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ গভীর তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এক ঝলকে
- মধ্যপ্রদেশে বাড়ির ছাদ থেকে কঙ্কালসার অবস্থায় সীমা সোনি (৪০) নামে এক নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
- গত ৪–৫ মাস ধরে প্রচণ্ড গরমে খোলা আকাশের নিচে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি।
- উদ্ধারকালে ওই নারী তীব্র ক্ষুধার কথা জানিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে অন্ন প্রার্থনা করেন।
- স্বামীর দাবি মানসিক অসুস্থতার হলেও পুলিশ একে অমানবিক নিষ্ঠুরতা হিসেবে তদন্ত করছে।