“রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে চরম নির্যাতন!” নাসিক TCS-এ ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্থার ঘটনায় সামনে এল নির্যাতিতার রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

“রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে চরম নির্যাতন!” নাসিক TCS-এ ধর্মান্তর ও যৌন হেনস্থার ঘটনায় সামনে এল নির্যাতিতার রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

মহারাষ্ট্রের নাশিকে বহুজাতিক আইটি সংস্থা টিসিএস-এর এক নারী কর্মীর যৌন শোষণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে প্রথমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। গত চার বছর ধরে চলা এই প্রতারণার জাল উন্মোচিত হয় যখন ভুক্তভোগী জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিটি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক।

পরিকল্পিত ফাঁদ ও ধর্মান্তরের চাপ

তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত অপরাধচক্রের অংশ। অভিযুক্তরা প্রথমে লক্ষ্যবস্তু করা নারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং পরে ট্রাস্ট অর্জনের মাধ্যমে তাদের রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে ব্ল্যাকমেইল বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, তাকে কেবল শারীরিক হেনস্থাই করা হয়নি, বরং নিজের ধর্ম ও পরিচয় বদলে ফেলার জন্য নিয়মিত মানসিক চাপ দেওয়া হতো। এই চক্রটি মূলত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরকরণের উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের তৎপরতা

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯টি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং পুলিশ ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। টিসিএস কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে এবং পুলিশের সাথে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে নিদা খান নামে এক অভিযুক্ত নারীর জামিনের আবেদন ঘিরে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এক ঝলকে

  • চাকরির প্রলোভন ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীদের যৌন শোষণ ও ধর্মান্তরের অভিযোগ।
  • ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং মোট ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
  • অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী।
  • আইটি সংস্থা টিসিএস অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *