ভুলবশতই গুলিবর্ষণ? হরমুজ কাণ্ডে ভারতের কাছে শেষমেশ ‘নতিস্বীকার’ বন্ধু ইরানের!

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি নৌসেনার সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ইরাক থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে ফেরার পথে ওমান উপকূলে ভারতের ‘জাগ অর্ণব’ ও ‘সামনার হেরাল্ড’ নামের দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টি করে ইরানের বাহিনী। এতে একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যটি সুরক্ষিত রয়েছে। প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে জাহাজ দুটি ভারতের দিকে আসছিল।
যোগাযোগে ত্রুটি নাকি অন্য কিছু
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর ভারতের বিদেশমন্ত্রক দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। বৈঠকে ইরান দাবি করেছে, এই হামলা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো ফাঁক তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তেহরান স্পষ্ট করেছে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত আগেই ২১টি জাহাজের তালিকা ইরানের হাতে তুলে দিয়েছিল, যার মধ্যে আক্রান্ত জাহাজ দুটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সম্পর্ক রক্ষার আশ্বাস
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ইরান দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে। ইরানি রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত ও ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ভবিষ্যতে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলি যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের ঘটনা জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- ওমান উপকূলে ইরাক থেকে তেল নিয়ে ফেরার পথে দুটি ভারতীয় জাহাজে ইরানের নৌসেনার গুলি।
- হামলায় ‘জাগ অর্ণব’ জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি।
- ঘটনার প্রেক্ষিতে দিল্লির তলবে ইরানের রাষ্ট্রদূত একে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে অভিহিত করেছেন।
- ভবিষ্যতে নিরাপদ জলপথ নিশ্চিত করতে ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ফের আশ্বাস দিয়েছে তেহরান।