শহরে অবৈধ হোটেলের রমরমা! কড়া অ্যাকশনে লালবাজার, বন্ধ হতে পারে বহু গেস্ট হাউস

কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে লালবাজার। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা লাইসেন্সহীন হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলোর বিরুদ্ধে এবার সমন্বিত অভিযান শুরু করতে চলেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রতিটি পুলিশ ডিভিশনকে তাদের এলাকার সমস্ত গেস্ট হাউস ও হোটেলের লাইসেন্স সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও আইনি স্বচ্ছতা
লালবাজারের প্রধান লক্ষ্য হলো ঠিক কতগুলো প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে চলছে এবং কতগুলো প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই ব্যবসা করছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। এই তালিকায় শুধু পুলিশের লাইসেন্স নয়, বরং পুরসভার অনুমতি এবং অগ্নিনির্বাপণ দপ্তরের ছাড়পত্র আছে কি না, তাও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে যে, শহরের বহু হোটেল দীর্ঘ সময় ধরে লাইসেন্স নবীকরণ না করেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দুর্ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা
মূলত জোড়াসাঁকো এলাকার একটি হোটেলে গত বছরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং তাতে প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ। সেই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট শহরের হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে যেমন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনই সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছেও কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
এই কড়া পদক্ষেপের ফলে শহরের আতিথেয়তা পরিষেবায় স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হলে অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। সম্পূর্ণ রিপোর্টটি তৈরি করে দ্রুত শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ।
এক ঝলকে
নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার সমস্ত হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স যাচাইয়ের জন্য ডিভিশনাল রিপোর্ট তলব করেছে লালবাজার।
শুধু পুলিশি ছাড়পত্র নয়, খতিয়ে দেখা হবে পুরসভা ও অগ্নিনির্বাপণ দপ্তরের বৈধ অনুমতিও।
জোড়াসাঁকো অগ্নিকাণ্ড মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই বিশেষ তৎপরতা।