“মা-মাটি-মানুষের স্লোগান এখন প্রতারণা!” ঝাড়গ্রামের সভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই ঝাড়গ্রামের জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এলেও তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের মহিলাদের সঙ্গেই সবচেয়ে বড় প্রতারণা করেছে। বিশেষ করে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করে তৃণমূল প্রমাণ করেছে যে তারা নারীশক্তির ক্ষমতায়নের পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ২০২৯ সাল থেকে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ বিজেপি নিয়েছে, তৃণমূল নানা কৌশলে তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আদিবাসী বঞ্চনা ও উন্নয়নের স্থবিরতা
ঝাড়গ্রামের মতো আদিবাসী প্রধান অঞ্চলে উন্নয়নের অভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৫ বছরে এই অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান বা সেচের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। উল্টো তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ আদিবাসীদের কয়েকশ একর জমি দখল করে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং মাত্রাতিরিক্ত বিলের সমস্যায় জর্জরিত সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিকে জনতা অন্ধকারে ডুবে আছে, অন্যদিকে শাসকদলের নেতাদের প্রাসাদোপম অট্টালিকা আলোর রোশনাইয়ে ঝলমল করছে।
জনসংযোগের ভিন্ন মেজাজ
রাজনৈতিক বাদানুবাদের মধ্যেই ঝাড়গ্রামে এক ভিন্ন মেজাজে ধরা দেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে ফেরার পথে প্রোটোকল ভেঙে রাস্তার ধারের একটি দোকানে দাঁড়িয়ে তিনি ঝালমুড়ি কেনেন। সেখানে উপস্থিত শিশু ও স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি নিজে ঝালমুড়ি খেয়ে জনসংযোগ সারেন। এই ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেয়ার করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে প্রতারণা ও নারী সংরক্ষণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
- ঝাড়গ্রামের জনসভা থেকে আদিবাসী জমি দখল এবং উন্নয়নহীনতার অভিযোগে শাসকদলকে আক্রমণ করেন তিনি।
- রাজনৈতিক কর্মসূচির ফাঁকেই স্থানীয় দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়ে জনসংযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
- নির্বাচনী আবহে এই সফর এবং অভিযোগগুলো রাজ্যের নারী ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।