ভরা বসন্তে বিষাদের ছায়া, জাতপাতের গ্লানি সইতে না পেরে প্রাণ দিলেন ১৯ বছরের নার্সিং ছাত্রী!

অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার কোরুকোন্ডা মণ্ডলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু হওয়া এক প্রেমকাহিনীর করুণ পরিণতি ঘটেছে। জাতপাতের দোহাই দিয়ে অপমান এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক নার্সিং ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আধুনিক সমাজেও জাতপ্রথার অন্ধকার দিক এবং তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবকে এই ঘটনাটি নতুন করে সামনে এনেছে।
জাতিবিদ্বেষ ও থানায় হেনস্তা
ইনস্টাগ্রামে পরিচয়ের সূত্রে গোকাবরম মণ্ডলের ওই ছাত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যুবকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, সম্প্রতি জাতপাতের অজুহাত দেখিয়ে ছেলের পরিবার তাতে বেঁকে বসে। অভিযোগ উঠেছে, গত শুক্রবার গোকাবরম থানায় আলোচনার চলাকালীন সবার সামনে ওই তরুণীকে তাঁর জাত নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ ও চরম অপমান করা হয়। একইসঙ্গে আইনি জটিলতা দেখিয়ে জানানো হয় যে, বিয়ের জন্য যুবকের বয়স ২১ বছর হওয়া প্রয়োজন।
অপমানের গ্লানি ও চরম সিদ্ধান্ত
বারবার লাঞ্ছনা এবং শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় গভীরভাবে ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। শনিবার সকালে দিদিমার বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেন। ৯ বছর আগে স্বামীকে হারানো ওই তরুণীর মা, যিনি অতি কষ্টে সন্তানদের মানুষ করছিলেন, মেয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন দেখা হবু সেবিকার এমন পরিণতিতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত যুবক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (SC/ST Act) নির্যাতন বিরোধী আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে। সামাজিক কুসংস্কার কীভাবে একটি উজ্জ্বল প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- পূর্ব গোদাবরীর কোরুকোন্ডা মণ্ডলে ১৯ বছর বয়সী নার্সিং ছাত্রীর আত্মহনন।
- জাতপাতের অজুহাতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও থানায় তরুণীকে জনসমক্ষে অপমান।
- মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা অসহায় পরিবার।
- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসসি-এসটি অ্যাক্টে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।