বিকাশের হাতেই হোক শেষকৃত্য, গৃহবধূর করুণ পরিণতি ও মর্মান্তিক সুইসাইড নোট

বিকাশের হাতেই হোক শেষকৃত্য, গৃহবধূর করুণ পরিণতি ও মর্মান্তিক সুইসাইড নোট

বিহারের খাগড়িয়া জেলায় যৌতুকের নিষ্ঠুর লালসার শিকার হয়ে এক ২৩ বছর বয়সী তরুণী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বুড়ি গণ্ডক সেতুর ওপর থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন হীরামণি কুমারী অঙ্কিত নামের ওই গৃহবধূ। প্রত্যক্ষদর্শীদের চিৎকারে স্থানীয় প্রশাসন ও এসডিআরএফ বাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করলেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

যৌতুকের নিষ্ঠুরতা ও মর্মস্পর্শী সুইসাইড নোট
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও হাতে লেখা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে হীরামণি তার স্বামী বিকাশ কুমার ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে পণের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। নোটে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, গত বছরের ডিসেম্বরে বিয়ের পর থেকেই তাকে নির্যাতন করা হতো এবং শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

মৃত্যুর পর শেষ আকুতি
তদন্তে জানা গেছে, হীরামণি তার মৃত্যুর জন্য সরাসরি স্বামী ও শ্বশুর রাজনীতি সিংকে দায়ী করেছেন। নোটের শেষে তিনি একটি মর্মান্তিক ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যে, তার শেষকৃত্য যেন স্বামী বিকাশের হাতেই সম্পন্ন হয়। জীবনের চরম দুর্দশার কথা লিখে তিনি তার স্বামী ও শ্বশুরের মোবাইল নম্বরও সেখানে দিয়ে গেছেন।

পুলিশি তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপ
নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকেশ কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, পুলিশ সবকটি দিক খতিয়ে দেখছে। উদ্ধারকৃত নথিপত্র অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে স্থানীয় ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দল নদীতে নিখোঁজ তরুণীর সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

এক ঝলকে

বিহারের খাগড়িয়ায় বুড়ি গণ্ডক নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ তরুণী হীরামণি কুমারী অঙ্কিত।

উদ্ধারকৃত সুইসাইড নোটে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের অভিযোগ।

২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ এবং নিখোঁজ তরুণীকে উদ্ধারে চলছে তল্লাশি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *