পৈশাচিকতায় স্তব্ধ দেশ, নিজের মেয়ের সাথেই এমন কাজ করলেন জন্মদাতা বাবা!

মুম্বাইয়ের বুকে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে, যা সামাজিক নৈতিকতা ও পারিবারিক সম্পর্কের পবিত্রতাকে চরম প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ২০ বছর বয়সী এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণী দীর্ঘ দিন ধরে নিজের ঘরেই পৈশাচিক লালসার শিকার হয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই তরুণী তার যন্ত্রণার কথা কাউকে জানাতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের হস্তক্ষেপে এই বীভৎস সত্য উন্মোচিত হয়েছে।
পেটে সাপের মতো অনুভূতি ও ভয়ংকর সত্য
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ওই তরুণী তার পেটে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করেন এবং ইশারায় তার ঠাকুমাকে জানান যে পেটের ভেতরে কোনো কিছু রিং রিং করে নড়াচড়া করছে। পরিবারের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ পেটের সমস্যা বা কৃমির উপদ্রব মনে করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান যে ওই তরুণী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রতিবন্ধী তরুণীর এই অবস্থা দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়।
তদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের চাঞ্চল্যকর মোড়
নির্যাতিতা তরুণী কথা বলতে অক্ষম হওয়ায় অপরাধীকে শনাক্ত করা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে সন্দেহভাজন ১৭ জন ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের ডিএনএ-র সাথে তা মিলিয়ে দেখে। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর পুলিশ জানতে পারে যে অপরাধী অন্য কেউ নয়, বরং তরুণীর নিজের জন্মদাতা বাবা। এই নারকীয় ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযুক্ত পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নিজ কন্যার ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন সমাজের অবক্ষয়ের চরম সীমাকেই নির্দেশ করে। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। বর্তমানে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া ও কঠোর ধারা প্রয়োগ করে মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এক ঝলকে
মুম্বাইয়ে ২০ বছর বয়সী এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
পেটে অদ্ভুত অনুভূতির কথা ইশারায় জানানোর পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আসল ঘটনা ধরতে পারেন।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই তরুণীর নিজের বাবা।
পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।