আমেরিকায় এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতি, শ্রীঘরবাসের মুখে দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য বরাদ্দ এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত তেলুগু ব্যক্তি, সম্পদ রজিদি এবং শ্রীধর মাডা আদালতের কাছে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। অস্তিত্বহীন চাকরির ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ভিসা হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তারা মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থাকে প্রতারিত করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
পরিকল্পিত জালিয়াতির কৌশল
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই চক্রটি সক্রিয় ছিল। সম্পদ রজিদি দুটি ভিসা প্রসেসিং কো ম্পা নি পরিচালনা করতেন এবং শ্রীধর মাডা ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাডা নিজের পদমর্যাদা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করতেন। পরবর্তীতে এই ভিসাপ্রাপ্ত কর্মীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে তারা বিপুল অর্থ মুনাফা করতেন।
যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চনা ও আইনি পরিণতি
আমেরিকার ভিসা লটারি ব্যবস্থায় এই ধরণের জালিয়াতি যোগ্য ও সৎ আবেদনকারীদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। নিয়ম মেনে আবেদন করা হাজার হাজার ভারতীয় পেশাজীবী এই অসাধু চক্রের কারণে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে কোটা দখল করার এই অপরাধে অভিযুক্তদের ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রায় ২.৫ লক্ষ ডলার জরিমানা হতে পারে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং বিচার বিভাগ বর্তমানে এই ধরণের ভিসা জালিয়াতি রোধে নজরদারি আরও কঠোর করেছে।
এক ঝলকে
- এইচ-ওয়ানবি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত তেলুগু ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
- ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্তিত্বহীন চাকরির ভুয়া নথি দেখিয়ে তারা ভিসা সংগ্রহ করতেন।
- অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল এবং ২.১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
- এই জালিয়াতির ফলে মেধাবী ও যোগ্য ভারতীয় চাকরিপ্রার্থীরা আইনি জটিলতা ও বঞ্চনার মুখে পড়ছেন।