সীমান্ত পেরিয়ে বিষাক্ত জল, পাঞ্জাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজার হাজার মানুষ!

সীমান্ত পেরিয়ে বিষাক্ত জল, পাঞ্জাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজার হাজার মানুষ!

ভারতের পাঞ্জাব সীমান্ত সংলগ্ন ফাজিলকা জেলায় দেখা দিয়েছে চরম জলসংকট। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে আসা চামড়া কারখানার রাসায়নিকযুক্ত বিষাক্ত ও দুর্গন্ধময় জল ভারতের সেচ খালগুলোতে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে কাসুর জেলার কলকারখানার বর্জ্য শতদ্রু নদে মিশে সীমান্ত পার হয়ে ভারতীয় জনপদে ঢুকে পড়ছে। ফলে খালের জল কুচকুচে কালো ও বিষাক্ত হয়ে পড়ায় স্থানীয় ওয়াটার ওয়ার্কসের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

বিপজ্জনক জল ও জনস্বাস্থ্যের সংকট

সীমান্তবর্তী বাল্লুয়ানা বিধানসভা কেন্দ্রের কাটায়েহরা গ্রামে এই সংকট সবচেয়ে তীব্র। ভূগর্ভস্থ জল আগে থেকেই পানের অযোগ্য হওয়ায় এখানকার মানুষ খালের জলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন সেই জলও দূষিত হয়ে পড়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে হ্যান্ডপাম্পের জল পান করছেন, যা ভয়াবহ চর্মরোগ ও পেটের পীড়াসহ নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি করছে। এলাকার ওয়াটার ওয়ার্কস কেন্দ্রগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা এবং টাস্কফোর্স গঠনের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সরকারের দায়ভার ও রাজনৈতিক সংঘাত

এই দূষণ মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে দোষারোপের পালা চলছে। পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল চিমা জানিয়েছেন, পাকিস্তান থেকে আসা এই বিষাক্ত জল আটকাতে বাঁধ তৈরির জন্য বারবার কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমান রাজ্য সরকার পরিচ্ছন্ন পানীয় জলের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে মানুষ এখনও জল কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত আরও প্ল্যান্ট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

এক ঝলকে

  • পাকিস্তানের চামড়া কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত জল শতদ্রু নদ হয়ে ভারতের পাঞ্জাবে প্রবেশ করছে।
  • ফাজিলকা জেলার সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে খালের জল কালো ও দুর্গন্ধময় হয়ে পড়ায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
  • দূষিত জল পানের ফলে পাঞ্জাবের সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
  • রাজ্য সরকার এই সংকটের জন্য কেন্দ্রের অসহযোগিতাকে দায়ী করলেও স্থানীয়রা দ্রুত আরও প্ল্যান্ট স্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *