পূর্ব সিকিমে তুষার-ধস! বরফে আটকে ৯০-১০০টি গাড়ি, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা সাফ করল যৌথ বাহিনী

হিমালয়ের কোলে প্রকৃতির রুদ্ররূপের সাক্ষী হলেন পূর্ব সিকিমে বেড়াতে যাওয়া কয়েকশো পর্যটক। মঙ্গলবার জওহরলাল নেহরু রোডের মন্দাকিনী জলপ্রপাতের কাছে আচমকা শুরু হওয়া ভারী তুষারপাতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। কয়েক হাত দূরের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এবং রাস্তায় পুরু বরফের স্তর জমে যাওয়ায় কয়েকশো পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা মাঝরাস্তায় আটকে পড়েন। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়।
যৌথ বাহিনীর উদ্ধার অভিযান
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ময়দানে নামে ভারতীয় সেনার জওয়ানরা। প্রতিকূল আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করে সেনার সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের শাখা জিআরইএফ (GREF), সিকিম পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বরফ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার পাশাপাশি পর্যটকদের আশ্বস্ত করার কাজ শুরু হয়। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় আটকে পড়া বৃদ্ধ ও শিশুদের বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যৌথ বাহিনী।
স্বস্তিতে পর্যটকরা
সেনা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি আটকে পড়া গাড়িকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ যানজট কাটিয়ে পুনরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়। এই উদ্ধার অভিযানে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সেনার এই মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস থাকায় পাহাড়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।
এক ঝলকে
বর্তমানে বরফ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
পূর্ব সিকিমের জওহরলাল নেহরু রোডে ভারী তুষারপাতে কয়েকশো পর্যটক আটকা পড়েন।
উদ্ধারকাজে ভারতীয় সেনার সাথে জিআরইএফ ও স্থানীয় পুলিশ অংশ নেয়।
প্রায় ৯০-১০০টি পর্যটকবাহী গাড়িকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।