মাংস ছোঁয় না, শুধু খায় প্রসাদ! কেরলের এই ‘নিরামিষাশী’ কুমিরকে দেখে অবাক বিজ্ঞানীরাও

মাংস ছোঁয় না, শুধু খায় প্রসাদ! কেরলের এই ‘নিরামিষাশী’ কুমিরকে দেখে অবাক বিজ্ঞানীরাও

ভারতের কেরালা রাজ্যের কাসারগড় জেলায় অবস্থিত অনন্তপুর পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের হ্রদে বাস করা ‘ববিয়া’ নামের এক কুমিরকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে কুমির মাংসাশী প্রাণী হলেও ববিয়া সম্পূর্ণ নিরামিষাশী এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সে মন্দিরের প্রসাদ খেয়েই জীবনধারণ করছে। মন্দিরের পুকুরে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী থাকলেও সেগুলোর কোনো ক্ষতি সে করে না, যা জীববিজ্ঞানের স্বাভাবিক নিয়মের বিপরীতে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

অলৌকিক বিশ্বাস ও রহস্যময় আবির্ভাব

স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ সেনারা হ্রদের তৎকালীন কুমিরটিকে গুলি করে হত্যা করেছিল, কিন্তু তার পরদিনই হ্রদে রহস্যজনকভাবে আরেকটি কুমিরের আবির্ভাব ঘটে। ভক্তদের বিশ্বাস, হ্রদে একটি কুমিরের মৃত্যু হলে অন্য একটি কুমির সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকট হয়। গত ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ববিয়া এই মন্দিরের পাহারাদার হিসেবে পরিচিত এবং মন্দিরের পুরোহিতরাই তাকে প্রতিদিন ভাতের তৈরি প্রসাদ খাইয়ে থাকেন।

প্রভাব ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব

বিষ্ণু মন্দির হিসেবে খ্যাত এই প্রাচীন উপাসনালয়টি প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। এখানকার এই অনন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন পর্যটক ও বিজ্ঞানীদের সমানভাবে আকর্ষণ করছে। হিংস্র শিকারি প্রাণীর খাদ্যাভ্যাসে এমন নাটকীয় পরিবর্তন এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে বছরের পর বছর ধরে অবস্থান ধর্মীয় পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, এই কুমিরটি মন্দিরের পবিত্রতার প্রতীক এবং ভক্তদের জন্য এক জীবন্ত বিস্ময়।

এক ঝলকে

  • কেরালার অনন্তপুর মন্দিরের হ্রদে বাস করা ‘ববিয়া’ কুমিরটি সম্পূর্ণ নিরামিষাশী এবং সে শুধু মন্দিরের প্রসাদ খায়।
  • হ্রদে মাছ থাকা সত্ত্বেও সে কোনো প্রাণী শিকার করে না এবং দর্শনার্থীদের জন্য কোনো বিপদ তৈরি করে না।
  • স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, একটি কুমিরের মৃত্যুর পর রহস্যজনকভাবে নতুন কুমিরের আবির্ভাব ঘটে সেখানে।
  • ১৭৩৩ সালে পুনর্নির্মিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম পবিত্র ও রহস্যময় তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *