আমরা একসাথে মরতে চেয়েছিলাম! প্রেমিকার করুণ মৃত্যুতে প্রেমিকের পর্দাফাঁস!

আমরা একসাথে মরতে চেয়েছিলাম! প্রেমিকার করুণ মৃত্যুতে প্রেমিকের পর্দাফাঁস!

মহারাষ্ট্রের জালনা জেলার আম্বাদে প্রেমের এক করুণ ও ভয়ংকর পরিণতির সাক্ষী থাকল দেশবাসী। দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটাতে গিয়ে এক নিষ্ঠুর চক্রান্তের শিকার হতে হলো এক বিবাহিত নারীকে। অভিযোগ উঠেছে, বিবাদ এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে বাবাসাহেব রাঠোড় নামের ওই ব্যক্তি তার প্রেমিকাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে কৌশলে নদীর গভীর জলে ঠেলে দিয়েছেন। নিজে জীবন দেওয়ার নাটক করলেও শেষ পর্যন্ত তীরে ফিরে আসেন এই যুবক।

সাঁতার বনাম পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, বাবাসাহেব নিজেই এই ছকটি সাজিয়েছিলেন। প্রেমিকা যখন বারংবার নিজের স্বামীকে ছেড়ে তার কাছে থাকার দাবি তুলছিলেন, তখন বাবাসাহেব সেই ঝামেলা এড়াতে ‘একসাথে মরণ’ বা আত্মহত্যার আবেগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। হ্রদের তীরে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে তিনি হাত ধরাধরি করে জলে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু মহিলাটি জলে পড়া মাত্রই বাবাসাহেব নিজের সাঁতার জানার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ফিরে আসেন এবং প্রেমিকার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

পুলিশের জালে ঘাতক প্রেমিক

শুরুতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত বাবাসাহেব। এমনকি বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি নিজে থেকেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে পুলিশের গভীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তাঁর দেওয়া বয়ানের অসংগতি ধরা পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং এটি ছিল একটি ঠান্ডা মাথার সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বর্তমানে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এক ঝলকে

  • মহারাষ্ট্রের আম্বাদে ১০ বছরের অবৈধ সম্পর্কের মর্মান্তিক ইতি ঘটল এক খুনের ঘটনার মাধ্যমে।
  • একসাথে আত্মহত্যার নাটক করে প্রেমিকাকে নদীর গভীর জলে ঠেলে দিয়ে নিজে তীরে ফেরেন বাবাসাহেব।
  • অভিযুক্ত যুবক আগে থেকেই বিবাহিত হওয়ায় প্রেমিকাকে গ্রহণ করার বদলে তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নেন।
  • পুলিশের তদন্তে আত্মহত্যার দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত প্রেমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *