সুহাগরাতের সত্যি কি কাল হলো! বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আজীবনের বিচ্ছেদ ঘনিষ্ট দম্পতির

সুহাগরাতের সত্যি কি কাল হলো! বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আজীবনের বিচ্ছেদ ঘনিষ্ট দম্পতির

ভিত্তিহীন কোনো অভিযোগ নয়, বরং নিজের জীবনের এক মর্মান্তিক সত্য জীবনসঙ্গীকে জানাতে চেয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়ারের এক তরুণী। বিয়ের প্রথম রাতে যখন সম্পর্কের নতুন বুনন তৈরি হওয়ার কথা, তখনই স্বামী ও পরিবারের কাছে ব্রাত্য হয়ে গেলেন ২১ বছর বয়সী ওই কনে। জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ করার পরেই বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিচ্ছেদ হয়ে যায় দম্পতির।

আস্থার অমর্যাদা না কি সামাজিক গোঁড়ামি?

জানা গেছে, বিয়ের রাতে কথোপকথনের সময় ওই তরুণী তাঁর স্বামীর কাছে স্বীকার করেন যে, অতীতে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। নিজের আত্মীয়ের দ্বারাই ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার কথা শোনার পর সহমর্মিতার বদলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বামী। তৎক্ষণাৎ ঘর থেকে বেরিয়ে এসে পরিবারের সকলকে বিষয়টি জানান ওই যুবক। এমনকি পরদিনই ওই তরুণীকে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বিয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিন বছরের আইনি লড়াই ও চূড়ান্ত বিচ্ছেদ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হওয়ার পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত তিন বছর ধরে মামলাটি পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে নির্যাতিতা তরুণী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেও স্বামীর মন গলেনি। সমঝোতার একাধিক চেষ্টা করা হলেও যুবক বা তাঁর পরিবার ওই তরুণীকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেন। অবশেষে তরুণীর অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই বিবাহকে ‘শূন্য’ বা বাতিল বলে ঘোষণা করে।

ঘটনাটি আধুনিক সমাজে সম্পর্কের গভীরতা এবং আস্থার অভাবকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। জীবনসঙ্গীর কাছে নিজের অতীত নিয়ে সৎ থাকা যেখানে নৈতিক দায়িত্ব, সেখানে সেই সততাই কাল হয়ে দাঁড়ালো ওই তরুণীর জন্য। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আজও নারী নির্যাতনের শিকার হলেও অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ তাঁকে প্রাপ্য সম্মান বা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • বিয়ের প্রথম রাতে অতীতে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের কথা স্বামীর কাছে প্রকাশ করেন মধ্যপ্রদেশের এক তরুণী।
  • সততা বজায় রাখতে গিয়ে চরম প্রতিক্রিয়ার শিকার হন তিনি; স্বামী ও তাঁর পরিবার তৎক্ষণাৎ বিয়ে ভেঙে দেয়।
  • দীর্ঘ তিন বছর আদালতে মামলা চলার পর অবশেষে বিবাহটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
  • নির্যাতিতা তরুণীর আইনি লড়াই চললেও সামাজিক স্বীকৃতির অভাবে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদেই সমাপ্তি ঘটে এই দাম্পত্যের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *