দেড় হাজার বছরের প্রাচীন মূর্তির পেটে জ্যান্ত মানুষের কঙ্কাল দেখে চিকিৎসকদের চক্ষু চড়কগাছ!

দেড় হাজার বছরের প্রাচীন মূর্তির পেটে জ্যান্ত মানুষের কঙ্কাল দেখে চিকিৎসকদের চক্ষু চড়কগাছ!

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রায়ই এমন কিছু তথ্য উঠে আসে যা সাধারণ মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী প্রাচীন একটি বৌদ্ধ মূর্তির রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য এক সত্যের মুখোমুখি হয়েছেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি সাধারণ একটি প্রাচীন শিল্পকর্ম মনে হলেও সিটি স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গেছে, মূর্তির ভেতরে অত্যন্ত সুসংগঠিত অবস্থায় মমি হয়ে রয়েছে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর দেহ। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো এই মূর্তির ভেতরে মানুষের কঙ্কাল পাওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব ও বিজ্ঞান মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসী ও মমির রহস্য

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিশেষ পদ্ধতিটি সাধারণ মমি করার প্রক্রিয়ার চেয়ে আলাদা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৌদ্ধ সন্ন্যাসী জীবিত অবস্থাতেই নিজেকে এই মূর্তির কাঠামোর ভেতরে উৎসর্গ করেছিলেন। প্রাচীন এই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা আধ্যাত্মিক সাধনার এক চরম পর্যায়ে গিয়ে নিজেদের মাটির নিচে বা বদ্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দি করে নিতেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ অবস্থানে শ্বাস নেওয়ার জন্য তারা দীর্ঘ বাঁশের নল ব্যবহার করতেন এবং একসময় ধ্যানের মুদ্রাতেই মৃত্যুবরণ করতেন। সময়ের পরিক্রমায় তাদের দেহ প্রাকৃতিকভাবেই মমিতে রূপান্তরিত হয়েছে, যা পরে মূর্তির রূপ ধারণ করে।

বিজ্ঞানের বিস্ময় ও ঐতিহাসিক প্রভাব

এই আবিষ্কারটি ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে বিজ্ঞানের এক অদ্ভুত সংযোগ স্থাপন করেছে। আধুনিক সিটি স্ক্যান প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলেই মূর্তির ভেতরে থাকা কঙ্কালটির ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবশিষ্টাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন চীন, থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামে এই ধরনের আধ্যাত্মিক সাধনার চল ছিল। এই আবিষ্কারটি কেবল বৌদ্ধ ধর্মের প্রাচীন ইতিহাসকেই নতুনভাবে সামনে আনেনি, বরং সে সময়ের মানুষের সহনশীলতা ও গভীর আধ্যাত্মিক জীবনধারা সম্পর্কে গবেষকদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

এক ঝলকে

  • নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ১৫০০ বছরের পুরনো বৌদ্ধ মূর্তির ভেতরে মানুষের কঙ্কাল বা মমির সন্ধান মিলেছে।
  • সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে জানা গেছে, মূর্তির ভেতরে থাকা সন্ন্যাসী ধ্যানের মুদ্রায় সমাহিত ছিলেন।
  • ধারণা করা হচ্ছে, প্রাচীনকালে গভীর সাধনার উদ্দেশ্যে সন্ন্যাসীরা নিজেদের এভাবে জীবন্ত মূর্তিতে রূপান্তরিত করতেন।
  • এই বিরল আবিষ্কারটি প্রাচীন এশীয় সংস্কৃতি ও রহস্যময় ধর্মীয় আচার-আচরণের এক অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *