তামাক ছাড়লেই ফিরবে ভাগ্য! দারিদ্র্য ঘুচিয়ে কোটি কোটি ভারতীয় পরিবার হবে ধনী: নয়া রিপোর্ট

ভারতের কোটি কোটি মানুষের ফুসফুস কালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তামাকজাত পণ্য কেড়ে নিচ্ছে তাদের আর্থিক সচ্ছলতাও। ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (BMJ) গ্লোবাল হেলথ’-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিড়ি, সিগারেট বা গুটখার পেছনে ব্যয় বন্ধ করলে ভারতের প্রায় ২.০৫ কোটি পরিবার দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি পেয়ে উন্নততর জীবনযাত্রার স্তরে পৌঁছাতে পারে।
তিল তিল করে জমছে ঋণের পাহাড়
গবেষণাটি বলছে, তামাক নিয়ন্ত্রণ এখন কেবল স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি একটি বড় দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল হিসেবেও কাজ করতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ১.৭০ কোটি এবং শহরাঞ্চলের ৩৫ লক্ষ পরিবার তামাক বর্জন করলে সরাসরি আর্থিক লাভের মুখ দেখবে। দেশের অতি দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের আয়ের প্রায় ১২.৪ শতাংশ অর্থ খাদ্যের বদলে ধোঁয়ায় উড়িয়ে দেয়। এই অর্থ সাশ্রয় হলে তারা শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার সুযোগ পাবে।
দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় আঘাত
টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস (TISS) এবং আইসিএমআর (ICMR)-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রামীণ ও দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের মাসিক আয়ের প্রায় ৬.৪ থেকে ৬.৬ শতাংশ খরচ করে তামাকের পেছনে। আশ্চর্যজনকভাবে, আয় বাড়ার সাথে সাথে তামাকের ওপর ব্যয়ের শতাংশ কমে আসে, যা প্রমাণ করে যে তামাকের অর্থনৈতিক মরণকামড়টি মূলত সমাজের নিম্নস্তরেই সবথেকে বেশি লাগে।
তামাক ব্যবহারের ফলে কেবল তাৎক্ষণিক অর্থ ব্যয়ই হচ্ছে না, বরং অকাল মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার খরচ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও পঙ্গু করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে কড়াকড়িভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কোটি কোটি ভারতীয় পরিবারের জীবনমান এক ধাক্কায় বদলে যেতে পারে।
এক ঝলকে
- তামাকের নেশা ছাড়লে ভারতের প্রায় ২.০৫ কোটি পরিবার দারিদ্র্য সীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।
- অতি দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের মাসিক উপার্জনের গড়ে ১২.৪ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ তামাকজাত পণ্যে খরচ করে ফেলে।
- গ্রামীণ এলাকার ১.৭০ কোটি এবং শহরের ৩৫ লক্ষ পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে তামাক বর্জন জরুরি।
- বিশেষজ্ঞরা তামাক নিয়ন্ত্রণকে এখন স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল হিসেবেও দেখছেন।