অমিত শাহের মন্তব্যে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন মহুয়া মৈত্র

রাজ্যের নির্বাচনী আবহে রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘এই মমতা দিদি’ বলে সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাত শুরু হয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। শাসক দলের দাবি, একজন নির্বাচিত মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এই ধরনের তাচ্ছিল্যসূচক শব্দ প্রয়োগ কেবল শিষ্টাচার বহির্ভূত নয়, বরং এটি চরম নারীবিদ্বেষের পরিচয়।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও মহুয়ার আক্রমণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের বিদায়ী সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি স্পষ্ট জানান যে, যারা বাংলার সংস্কৃতি ও কৃষ্টির ধার ধারেন না, তাদের মুখেই এমন ভাষা মানায়। মহুয়ার মতে, ভারতের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে বিজেপি নারীদের প্রকৃত অর্থে কতটা সম্মান দেয়। অতীতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দিদি ও দিদি’ ডাক বাংলার মানুষ গ্রহণ করেনি, তাই শাহের এই মন্তব্যও আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির জন্য ব্যুমেরাং হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ও রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, বাংলায় কাউকে নাম ধরে ‘এই…’ বলে সম্বোধন করা চরম অবমাননাকর। একে রাজনৈতিক আক্রমণের বদলে এক জন পদাধিকারী মহিলার সম্মানহানি হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ‘বাংলার দিদি’ হিসেবে তুলে ধরেন বলেই তাঁকে ওই নামে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে আসাম্মানের কিছু নেই বরং তৃণমূল মূল ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে।
ভোটের লড়াইয়ে এই ভাষাগত বিতর্ক সাধারণ ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারী ভোটব্যাংক এবং বাঙালি আবেগকে হাতিয়ার করে তৃণমূল যখন সরব হচ্ছে, তখন বিজেপির পক্ষে এই ‘তাচ্ছিল্য’ বা ‘সহজ সম্বোধন’—এর ব্যাখ্যা দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। প্রথম দফার ভোটের আগেই এই বাকযুদ্ধ বঙ্গ রাজনীতির পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- মুখ্যমন্ত্রীকে অমিত শাহের ‘এই মমতা দিদি’ সম্বোধন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী ও বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে তৃণমূল।
- মহুয়া মৈত্র পাল্টা আক্রমণ করে একে বিজেপির শিষ্টাচারহীনতার প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে ‘দিদি’ সম্বোধনে কোনো আসাম্মান নেই।