ব্যাংকের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত দুই মহিলা, তাদের দেখে স্বামী খুব খুশি হতেন! কিন্তু রহস্য ফাঁস হতেই হতবাক সকলে

উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে এক অদ্ভুত ও চতুর ছিনতাইকারী চক্রের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। এই চক্রের বিশেষত্ব হলো, তারা অপরাধের জালে সাধারণ মানুষকে ফাঁসাতে নিজেদের স্ত্রীদের ব্যবহার করত। দীর্ঘ তল্লাশির পর এসওজি ও কোতোয়ালি থানার পুলিশ যৌথ অভিযানে দুই দম্পতিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে লুটের প্রায় এক লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অটো রিকশা ও মেকআপের মরণফাঁদ
এই চক্রটি মূলত ব্যাংকে আসা সহজ-সরল প্রবীণ নাগরিক বা পেনশনভোগীদের টার্গেট করত। ব্যাংকের বাইরে দুটি আলাদা অটো রিকশা নিয়ে অপেক্ষা করত আদিল ও আসগর। অটোর ভেতরে যাত্রী হিসেবে সেজেগুজে বসে থাকত তাদের স্ত্রী শবা ও নুরী। কোনো ব্যক্তি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বেরোলে সুন্দরীদের উপস্থিতিতে ভরসা পেয়ে তারা ওই অটোতে উঠে পড়তেন। কিছুদূর যাওয়ার পর অটো নষ্ট হওয়ার নাটক করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সর্বস্ব লুটে নিত এই চক্রটি।
মাস্টারমাইন্ড ও নেপথ্য পরিকল্পনা
তদন্তে উঠে এসেছে যে, পুরো চক্রটির মূল উপদেষ্টা ছিল উসমান আলী নামের এক ব্যক্তি। মাসের শুরুতে যখন সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগীরা টাকা তুলতে আসতেন, তখন উসমান ব্যাংকের ভেতর রেকি করত। কার কাছে কত টাকা আছে সেই তথ্য সে বাইরে থাকা দম্পতিদের কাছে পৌঁছে দিত। এমনকি অটোর ভেতরে মহিলাদের বসার ধরন ও কথাবার্তার জন্য নির্দিষ্ট ‘কোড ওয়ার্ড’ ব্যবহার করা হতো যাতে সাধারণ মানুষ কোনো সন্দেহ না করে।
পুলিশি তৎপরতা ও প্রভাব
বেরেলিতে গত এক বছর ধরে ব্যাংক গ্রাহকদের সাথে ঘটে যাওয়া রহস্যময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ উদ্বিগ্ন ছিল। ধৃতরা এ পর্যন্ত আটটি বড় ধরনের ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। এই চক্রটি ধরা পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, অপরিচিত যানবাহনে ওঠার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সাথে অন্য কারো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- বেরেলিতে দম্পতি চালিত এক অভিনব ছিনতাইকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার।
- ব্যাংকের গ্রাহকদের বিশ্বাস জিততে নিজেদের স্ত্রীদের যাত্রী সাজিয়ে অটোতে বসিয়ে রাখত অভিযুক্তরা।
- আটটি ডাকাতির কথা স্বীকার, ধৃতদের থেকে প্রায় ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার।
- চক্রের মূলে ছিল উসমান আলী নামের এক মাস্টারমাইন্ড, যে ব্যাংকের ভেতরে গ্রাহকদের রেকি করত।