দুই সন্তানের জন্মের ব্যবধানে কেন শর্ত! কর্মজীবী মায়ের অধিকার রক্ষায় নজিরবিহীন রায় হাইকোর্টের

মা হওয়ার অধিকার কোনো শর্তে আটকে রাখা যায় না। এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ে এই বিষয়টিই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে আগের ছুটির দুই বছর পূর্ণ হয়নি, এই যুক্তিতে মাতৃত্বকালীন ছুটি (মেটারনিটি লিভ) আটকে দেওয়া আইনত ভুল বলে জানিয়েছে আদালত। বিচারপতি করুণেশ সিং পাওয়ারের বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, মাতৃত্বের মতো একটি স্বাভাবিক এবং মানবিক প্রক্রিয়াকে সরকারি আর্থিক হ্যান্ডবুকের নিয়মে বেঁধে রাখা যায় না।
আইন বনাম নির্বাহী নির্দেশিকা
মামলাটির মূলে ছিলেন মণীষা যাদব নামে এক সরকারি কর্মী। তিনি ২০২১ সালে প্রথম সন্তানের জন্মের পর ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার ছুটির আবেদন করলে উত্তরপ্রদেশ সরকার তা খারিজ করে দেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, ফিনান্সিয়াল হ্যান্ডবুকের ১৫৩(১) নিয়ম অনুযায়ী দুটি মাতৃত্বকালীন ছুটির মধ্যে অন্তত দুই বছরের ব্যবধান থাকতে হবে। তবে আদালত এই যুক্তি মানতে নারাজ। রায়ে জানানো হয়েছে, ১৯৬১ সালের মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন একটি সংসদীয় ও কল্যাণমূলক আইন। তাই কোনো সরকারি নির্দেশিকা বা নির্বাহী নিয়ম এই মূল আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না।
কর্মজীবী নারীদের অধিকার সুরক্ষা
আদালতের মতে, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো দয়া নয়, বরং এটি একজন কর্মজীবী নারীর আইনসিদ্ধ অধিকার। দ্বিতীয়বার সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধান বিচার করে ছুটি না দেওয়াকে ‘অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে ব্যাখ্যা করেছে হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে মণীষা যাদবকে ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি মঞ্জুর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু নারী কর্মী, যারা সময়ের ব্যবধানের কারণে বিভাগীয় বাধার মুখে পড়েন, তারা নতুন করে আইনি রক্ষাকবচ পেলেন।
এই রায় কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ যে প্রশাসনিক জটিলতার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত সেটিই প্রমাণ করল।
এক ঝলকে
- দুই বছরের ব্যবধান না থাকলেও দ্বিতীয় মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে হবে বলে জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
- মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন ১৯৬১-এর গুরুত্ব সরকারি হ্যান্ডবুকের নিয়মের চেয়ে বেশি বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।
- ছুটি বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে আবেদনকারীকে দ্রুত ছুটি দেওয়ার নির্দেশ।
- কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার রক্ষায় এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রভাব বিস্তারকারী।