ইরান আক্রমণে মরিয়া নেতানিয়াহুর প্রস্তাবে সায় দেননি তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট!

ইরান আক্রমণে মরিয়া নেতানিয়াহুর প্রস্তাবে সায় দেননি তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট!

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘ সময় ধরে ইরানকে সামরিকভাবে দমনে সচেষ্ট থাকলেও হোয়াইট হাউসের সমর্থন পেতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছেন, বিগত তিনজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছেই ইরান আক্রমণের সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেন—প্রত্যেকেই তাঁর সেই যুদ্ধংদেহী প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

কূটনৈতিক টেবিলে যুদ্ধের আবহাওয়া

জন কেরি জানান, উচ্চপর্যায়ের ওই আলোচনার সময় তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। নেতানিয়াহু বিশ্বাস করতেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের একমাত্র পথ হলো সরাসরি সামরিক হামলা। তবে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো বৃহৎ যুদ্ধ জড়ানোর ঝুঁকি নিতে চাননি। বিশেষ করে বারাক ওবামার সময়ে কূটনীতি ও পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল, যা নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।

প্রত্যাখ্যানের কারণ ও আঞ্চলিক প্রভাব

আমেরিকার এই ‘না’ বলার পেছনে প্রধান কারণ ছিল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা। পেন্টাগন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করেছিল, ইরানের ওপর হামলা চালালে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে এবং মার্কিন স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। নেতানিয়াহুর এই একতরফা সামরিক মনোভাব ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মাঝেমধ্যেই কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে, যার রেশ এখনো বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে স্পষ্ট।

এক ঝলকে

  • ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অন্তত তিনবার ইরান আক্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চেয়েছিলেন।
  • সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, বারাক ওবামা ও জো বাইডেন এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন।
  • সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি নিজে এই আলোচনাগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলে দাবি করেছেন।
  • মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতেই ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *